মেদিনীপুরে অন্য রাজ্য থেকে ফিরলেন ২৬৯ জন , আতঙ্কে মানুষ

24th March 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুরে অন্য রাজ্য থেকে ফিরলেন ২৬৯ জন , আতঙ্কে মানুষ


রতন দাস [ মেদিনীপুর ];  ভিন্ রাজ্য থেকে মেদিনীপুরে ফিরলেন ২৬৯ জন। সকলেই রবিবার ট্রেনে করে মেদিনীপুরে ফিরেছেন বলে প্রশাসনের এক সূত্রে খবর। ওই সূত্র জানাচ্ছে, রবিবার রাতে সকলে মেদিনীপুরেই ছিলেন। সোমবার সকালে যে যাঁর বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি কোথায়? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ‘‘এক- একজনের বাড়ি জেলার এক- এক এলাকায়।’’ জানা যাচ্ছে, সকলেই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে ছিলেন। কেউ কাজের সূত্রে। কেউ পড়াশোনার সূত্রে। সোমবারও অনেকে ভিন্ রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছেন বলে খবর এসেছে প্রশাসনের কাছে। যে সব ট্রেন লকডাউনের আগে সফর শুরু করেছিল তারা নির্দিষ্ট গন্তব্য পৌঁছবে বলে নির্দেশ ছিল রেলের। সেই মতো সোমবারও একটি ট্রেন মেদিনীপুর স্টেশনে আসে। স্টেশনেই ওই যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

রবিবার দুপুরে একটি ট্রেনে করে মেদিনীপুরে আসেন ২১ জন। এরমধ্যে ১১ জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা। পরে রাতে অন্য একটি ট্রেনে করে মেদিনীপুরে এসেছেন ২৪৮ জন। এরমধ্যে ২০১ জন পুরুষ, ৪৭ জন মহিলা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মেদিনীপুর স্টেশনে সকল যাত্রীর থার্মাল স্ক্রিনিং হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘‘ট্রেনে করে ভিন্ রাজ্য থেকে যাঁরা মেদিনীপুরে ফিরেছেন, তাঁদের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, সকলকেই আপাতত দু’সপ্তাহ ‘হোম আইসোলেশনে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বিদেশ ও ভিন্ রাজ্য ফেরতেরা প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করায় সোমবারও শহরের একাধিক এলাকায় উত্তেজনাও ছড়ায়। পুলিশও যায়। জেলার স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, সোমবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে বিদেশ ফেরত ১৪৩ জনের উপরে নজরদারি চলেছে। এরমধ্যে ২৪ জন ২৮ দিন গৃহ নজরবন্দি (হোম আইসোলেশন) থেকেছেন। তাঁরা এখন বিপন্মুক্ত। এখনও ১৩ জনের খোঁজ মেলেনি। বাকি ১১৯ জন এখনও আইসোলেশনে রয়েছেন। এরমধ্যে হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন ৭ জন। হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ১১২ জন। এঁদের সকলের শারীরিক পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেছে স্বাস্থ্য দফতরের দল। জেলার সর্বত্র নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, কেউ জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে ফিরলে দ্রুত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ ফেরত, ভিন্ রাজ্য ফেরতেরা ঘরে থাকার নির্দেশ ঠিকঠাক মানছেন কি না তাও দেখা হচ্ছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck