অজয় দাস [ কলকাতা ]; নিজামউদ্দিনের জমায়েত নিয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করার দরকার নেই। বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। যাঁরা গিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার তাঁদের খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যেই তাঁদের অনেককে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা যাতে নিজে থেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে আহ্বানও এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানালেন। কিন্তু যে দিন দিল্লির মরকজ নিজামউদ্দিনে জমায়েত হয়েছিল, করোনাকে তখনও দেশের সরকার মহামারি হিসেবে দেখছিল না বলে এ দিন জানিয়েছেন মমতা। কেন্দ্রের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি সে কথা জানিয়েছেন।
দিল্লির মরকজ নিজামউদ্দিনে তবলিগি জামাতের ধর্মীয় সমাবেশ এবং তার পরে বেশ কিছু দিন ধরে সেখানে কয়েক হাজার লোকের থেকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশেই। মরকজ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে গিয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অনেকেই করোনা সংক্রামিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং চিকিৎসা চলছে। শুধু ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে নয়, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিয়ে জমায়েত করেছিল তবলিগ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারও মরকজফেরতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, কেন্দ্রের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকার সক্রিয় হয়। মঙ্গলবারের মধ্যেই ৫৪ জনকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, বাঁকুড়া, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আরও কয়েক জনের খোঁজ মিলেছে এবং তাঁদেরও কোয়রান্টিনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি যেন না করা হয়, সতর্কবার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজামউদ্দিনের বিষয়টি নিয়ে অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন, কিন্তু তা উচিত হচ্ছে না— বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘নিজামউদ্দিনে যাঁরা গিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে এত চাঞ্চল্য তৈরি করার দরকার নেই।’’ রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।