কলকাতা: ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল, তৈরি হয়েছিল বিজ্ঞাপনও, কাজও এগিয়েছিল অনেকটা— তা সত্ত্বেও দূরদর্শনের মাধ্যমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করল রাজ্য সরকার। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় একটি ভিডিওবার্তায় জানান, বিভিন্ন মহল থেকে জানতে পারছি, ক্লাসের সময়টা ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের জন্য লাভজনক হচ্ছে না। তাই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হচ্ছে। তবে বাংলার শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে যে কাজগুলি হচ্ছিল তা অব্যাহত থাকবে।
লকডাউনের জেরে ডিডি বাংলায় ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল প্রতিদিন ৪ টে থেকে ৫টা পর্যন্ত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস করানোর পরিকল্পনার কথা শিক্ষামন্ত্রী নিজেই সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এদিনের ভিডিওবার্তায় তা থেকে সরে আসায় বিভিন্ন মহলে এর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, কবে, কোন বিষয়ের ক্লাস হবে, কোন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ইমেল আইডিতে কখন, কীভাবে প্রশ্ন পাঠাতে পারবে পড়ুয়ারা, কোন নম্বরে ফোন করে জিজ্ঞাস্য রাখা যাবে, সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এতদূর এগিয়েও সরে আসার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যাচ্ছে না। তবে, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক দেওয়ার কাজটি হচ্ছে। সেই কাজ করে নিজের স্কুলের শিক্ষকদের কাছে তা জমা দেবে পড়ুয়ারা। তবে, সেটা দিতে হবে স্কুল খোলার পরে।
সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটি, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং শিক্ষাদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বসে মডেল প্রশ্নপত্র এবং স্টাডি মেটেরিয়াল তৈরি করছেন। বোর্ডের পরীক্ষা দেবে এমন ছাত্রছাত্রীদের জন্যও মডেল প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। বেশ কিছু স্কুলও নিজেদের উদ্যোগে প্রযুক্তির ব্যবহার করে পাঠদান করছে। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল, যাদবপুর বিদ্যাপীঠের মতো কিছু স্কুল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে নোটস দেওয়া, পড়ুয়াদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কাজগুলি করছে। মডেল প্রশ্ন-উত্তর ছাড়াও প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হচ্ছে। উল্টোডাঙার আদর্শ বিদ্যাপীঠের এক শিক্ষক আবার জুম অ্যাপটি ব্যবহার করে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছেন।