পশ্চিম মেদিনীপুরের সাউরিতে করোনায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধ

10th April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরের সাউরিতে করোনায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধ


দাঁতনঃ  ওড়িশায় গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলেন দাঁতনের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সেই সূত্রে বৃহস্পতিবার দাঁতন-২ ব্লকের সাউরির বাসিন্দা বছর সত্তরের ওই বৃদ্ধের পরিবারকে কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। রাতের মধ্যেই তাঁদের নারায়ণগড়ের মকরামপুরে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য দফতর। 

বুধবার চিকিৎসার জন্য ওড়িশার ভুবেনেশ্বরে গিয়েছিলেন মাস কয়েক আগে ব্রেন টিউমার অপারেশন হওয়া ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সেখানেই তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে বলে এ দিন জানতে পারে প্রশাসন। এর পরেই তাঁর নিকট আত্মীয় ও যে অ্যাম্বুল্যান্সে তিনি ওড়িশায় গিয়েছিলেন, তার চালককে কোয়রান্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ওই বৃদ্ধ কী সূত্রে আক্রান্ত হয়েছেন তা নিয়ে শোরগোল পড়েছে জেলায়। খড়্গপুরের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস পাল বলেন, “আমরা সরকারিভাবে এখনও ওই বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত বলে জানতে পারিনি। তবে ওড়িশার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি দাঁতন-২ ব্লকের ওই বৃদ্ধের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ হয়েছে। ওঁর মেয়ে তা স্বীকারও করেছেন। তাই আমরা ওই বৃদ্ধের পরিজন ও এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করছি।”

গত জানুয়ারিতে দাঁতন-২ ব্লকের সাউরির বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের ব্রেন টিউমার অপারেশন হয়। তারপর নিয়মিত ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ওই বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসার জন্য যেতেন। দিন কয়েক আগে অসুস্থ হয়ে মেদিনীপুরের নার্সিংহোমে ভর্তি হন ওই বৃদ্ধ। কিছুটা সুস্থ হয়ে দিন দু’য়েক আগে বাড়ি ফিরলেও ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার ভোরে তাঁকে ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেই এ দিন শোনা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। 

আপাতত তাঁর বাড়ির নিকট আত্মীয়দের নারায়ণগড়ের মকরামপুর কোয়রান্টিন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও সাউরি বাজারের কাছে থাকা মেজো মেয়ে-জামাই, নারায়ণগড়ের বাসিন্দা ছোট মেয়ে-জামাই এবং বৃদ্ধকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ও চালকের পরিবারকেও কোয়রান্টিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২৪জনকে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। মেদিনীপুরে ওই বৃদ্ধের যে দুই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছিল, সেখানকার ৪০ জনকেও কোয়রান্টিনে পাঠানো হচ্ছে। জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা জানতে পেরেছেন, মেদিনীপুরে চিকিৎসার আগে মার্চের শেষে বৃদ্ধ পটাশপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে কয়েকদিন ছিলেন। এ ক্ষেত্রে এগরার আক্রান্তের সূত্র রয়েছে কিনা, চর্চা চলছে। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস বলেন, “মেদিনীপুরে নার্সিংহোমে ভর্তির আগে বৃদ্ধ পটাশপুরে গিয়েছিলেন। কীভাবে উনি সংক্রমিত হয়েছেন সেই সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।”





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck