বর্ধমান: ইচ্ছে ছিল শেষ জীবনে নিজের হাতে তৈরি বৃদ্ধাশ্রমেই থাকবেন। হতদরিদ্র, নিঃস্ব প্রবীণ মানুষ এবং অনাথ শিশুদের সঙ্গে গল্প করেই দিনগুজরান করবেন তিনি। কিন্তু, কর্মব্যস্ততার জন্য বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান ছাড়া সেভাবে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার সুযোগ হয়ে উঠেনি এতদিন। করোনা ভাইরাসের মারণ কোপে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। শেষ জীবনের ইচ্ছেগুলি পূরণ করার সুযোগ পাওয়া যাবে কি না, তা অনিশ্চিত। তাই বাড়ি ছেড়ে পূর্বস্থলীতে এখন নিজের তৈরি বৃদ্ধাশ্রমেই দিন কাটাচ্ছেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তবে, সেখানে বসে নেই তিনি। ক্যাম্প অফিস খুলে বৃদ্ধাশ্রম থেকেই করোনা মোকাবিলা করছেন। গরিব ও দুঃস্থদের ত্রাণও দিচ্ছেন। বয়স ৬৮ বছর হলেও সুরক্ষা বিধি মেনে নানা কর্মসূচিতে মাঝে মাঝে বাইরে বের হচ্ছেন। মানুষকে সচেতন করছেন। তবে, আবার ফিরে আসছেন বৃদ্ধাশ্রমেই। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবাসিকেরাও এখন খুশি। কারণ, তিনিও ওই আশ্রমের এক আবাসিক হয়ে উঠেছেন।
পূর্বস্থলীর বিদ্যানগর গ্রামে মন্ত্রীর বাড়ি। নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং অনাথ শিশুদের থাকার জন্য কয়েকবছর আগে তিনি পূর্বস্থলীর দামোদরপাড়ায় একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন। নাম দিয়েছেন, ‘মানসিক শান্তি ও বিকাশ কেন্দ্র’। বৃদ্ধ ও শিশুদের একইসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। কোনও সরকারি সাহায্য না নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত টাকা দিয়েই ওই বৃদ্ধাশ্রম চালান। স্বপনবাবু শুধু রাজ্যের মন্ত্রীই নন, তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিও। তাই দিনরাত তাঁর ব্যস্ততারও অন্ত নেই। মাঝে মাঝে নিজের বৃদ্ধাশ্রমে আসতেন। সবার খোঁজখবর নিয়ে চলে যেতেন। কিন্তু, এই করোনা পরিস্থিতিতে নিজের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতেই তিনি এখন বাড়ি ছেড়ে ওই বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে উঠেছেন। দু’সপ্তাহ ধরে সেখান থেকেই যাবতীয় কাজকর্ম করছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছে একটি বড় প্রার্থনা কক্ষ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, জৈন সকল ধর্মের মানুষের জন্য সব ধর্মের ছবি টাঙিয়েছেন। যাতে কারও প্রার্থনা করতে অসুবিধা না হয়। কারণ, সকল ধর্মের আবাসিকেরা রয়েছেন। তিনি নিজেও রোজ সকালে স্নান সেরে সেখানে প্রার্থনায় বসছেন। সবার সঙ্গে প্রাতঃরাশ করছেন। তারপর বাইরে কর্মসূচি থাকলে গ্লাভস ও মাস্ক পরে বের হচ্ছেন। গাড়িতে থাকছে স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ এবং হ্যান্ডমাইক। ওই হ্যান্ডমাইক নিয়ে তিনি প্রথমদিন থেকেই মানুষকে সচেতন করতে রাস্তায় নেমেছেন। এখনও ওই সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার জন্য তিনি নিজের বিধানসভা এলাকায় বহু স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন। অনেকেই মন্ত্রীর হাতে এসে চেক দিয়ে গিয়েছেন। মন্ত্রী বৃদ্ধাশ্রম থেকে ওই চেক নিয়ে বর্ধমান শহরে জেলাশাসকের অফিসে এসে দিয়ে গিয়েছেন।