এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষের এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। তিনিই এই জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী। তাঁর নমুনা পরীক্ষার পর করোনা পজিটিভ আসায় গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংক্রমণ রুখতে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মোট ৩১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুলিসের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির গ্রাম সিল করে দেওয়া হয়েছে। যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গ্রামের মানুষ বাইরে বের না হন এবং বাইরের কোনও মানুষ ওই গ্রামে ঢুকতে না পারেন। সেই সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আরও কেউ এসেছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও কেউ এসে থাকলে তাঁদেরও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। এখনও পর্যন্ত ওই ব্যক্তির কোনও বিদেশ যোগ বা ভিন রাজ্যের যোগ পাওয়া যায়নি। ‘গোষ্ঠী সংক্রমণ’ কিনা তা নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর উদ্বেগে রয়েছে।
প্রশাসন ও সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি কলকাতার মেটিয়াবুরুজে একটি গারমেন্টস সংস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন। কেবলমাত্র উৎসব-অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে খণ্ডঘোষে নিজের গ্রামে আসতেন। এই লকডাউনের সময়ও তিনি কলকাতাতেই ছিলেন। দিনকয়েক আগে ভোরবেলা বাইক চালিয়ে খণ্ডঘোষের গ্রামে চলে এসেছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষ ব্লকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি। তাই গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি শ্বশুরবাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে খণ্ডঘোষে দুই আত্মীয়ের বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরমধ্যে, জ্বর-সর্দি ও কাশি হওয়ায় তিনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখাতে গিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ভোরে বাইক চালিয়ে ফেরায় তাঁর সর্দি হয়েছে। কিন্তু, করোনার উপসর্গ থাকায় মেডিক্যালের চিকিৎসকরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বর্ধমানের গাংপুরে কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানেই তাঁকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যার পর জানা যায়, তাঁর রিপোর্ট ‘কোভিড-১৯ পজিটিভ’। অর্থাৎ তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন, ওইদিন রাতেই চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের কয়েকজনকে ওইদিন রাতেই এবং বাকি কয়েকজনকে রবিবার সকালে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। এদিন পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় নিজে খণ্ডঘোষের ওই গ্রামে যান। গ্রামে ব্যারিকেড করে সিল করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো ৩১ জনের মধ্যে ওই ব্যক্তির স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, তাঁর বাবা, দুই ভাই, ভাইয়েদের স্ত্রী, তাঁদের সন্তান সহ কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন।