করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে লকডাউনের ফলে খাদ্যাভাবে পড়েছেন প্রচুর মানুষ। তাঁদের জন্য ব্লকে ব্লকে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। তারপরও যদি কেউ অভুক্ত থাকেন তাহলে তাঁদের সরাসরি বোলপুর তৃণমূল কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানালেন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার বোলপুর থেকে ত্রাণ বিলির দ্বিতীয় পর্যায়ে ট্রাকগুলিকে রওনা করার পর একথা জানান তিনি।
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। লকডাউনের জেরে সমস্ত কিছু বন্ধ থাকায় সমাজের দুঃস্থ শ্রেণীর মানুষের খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। তাই বীরভূম জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোট বিধানসভার প্রত্যেক ব্লকে খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। সেজন্য ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার বস্তা চাল ও ৭২ টন ডাল জোগাড় করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বীরভূমের এক অংশে এই খাদ্যসামগ্রী রওনা হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় পর্যায়ে লাভপুর, নানুর, ইলামবাজার ও পার্শ্ববর্তী জেলার তিনটি বিধানসভা এলাকায় এই ত্রাণসামগ্রী রওনা দেয়। গতদিনের মতো এদিনও ত্রাণসামগ্রী ভর্তি ট্রাকগুলিকে সবুজ পতাকা নেড়ে গন্তব্যে রওনা করেন অনুব্রত মণ্ডল। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোলপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিনহা ও অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব। অনুব্রতবাবু আগেই জানিয়েছিলেন, আগামীতে লকডাউন বৃদ্ধি পেলে ফের একইভাবে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করবে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সভামঞ্চ থেকে অনুব্রতবাবু বলেন, লকডাউন যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে তা মানবেন। কোনও অসুবিধা হলে জানাবেন, বোলপুর তৃণমূল কার্যালয়ে যাবেন। ৫০০ বা ১০০০ লোক যান, কোনও অসুবিধা হবে না। আমি আবার খাদ্যের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রত্যেক শহর এলাকায় ১০০০ বস্তা করে চাল দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় রেশনে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও রেশন ডিলার দুর্নীতি করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে।