কলকাতা: ‘মানুষের সময় নষ্ট করে শুধু ধেঁাকা, ধাপ্পাবাজি।’ নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দ্বিতীয় দিনের ঘোষণাকে এই আক্রমণাত্মক ভাষাতেই ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছিলেন, তা নিয়ে সীমাহীন আগ্রহে অপেক্ষা করেছিল গোটা দেশ। বুধবার নির্মলা সীতারামন তাঁর ডেপুটিকে নিয়ে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেন, তা যাবতীয় আগ্রহে জল ঢেলে দেয়। বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয় দিনেও তার অন্যথা হয়নি। বরং মানুষের জন্য প্যাকেজ ঘোষণার নামে এই দীর্ঘ বক্তৃতায় সাধারণ মানুষ যে আসলে কিছুই পেলেন না, সেটাই স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ কী পাচ্ছে? উল্টে রাজ্যগুলিকে বলছে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত তহবিল থেকে টাকা খরচ করতে। এটা সম্ভব? প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড... এসব দুর্ঘটনায় বিপর্যয় মোকাবিলার টাকা খরচ করতে হয়। করোনা ঠেকাতেও যদি এই টাকা বেরিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে? একটা ফান্ডের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে মাছের তেলে মাছ ভাজছে। আর্থিকভাবে কোণঠাসা করে দিচ্ছে রাজ্যগুলোকে... পঙ্গু করে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে।’
বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং তঁার মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের ভাষণ আসলে তঁাদের সরকারের প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়। এই তীব্র সঙ্কটে মানুষের পকেটে কী আসছে, তার দিশা মিলছে না। বরং মুখের সামনে একের পর এক ঋণের টোপ ঝুলিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। প্যাকেজ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুরেই বুধবারই বলেছিলেন, ‘সবটা বিগ জিরো।’ প্যাকেজ সংক্রান্ত ঘোষণার দ্বিতীয় দিনেও প্রাপ্তির ভঁাড়ার শূন্যই রয়ে গেল বলে সাফ জানিয়েছেন মমতা।