উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের উপর চলছে যোগীর পুলিশের অত্যাচার

27th December 2019 ভারত
উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের উপর চলছে যোগীর পুলিশের অত্যাচার


উত্তরপ্রদেশঃ নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে এ যাবৎ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সিএএ–বিরোধী হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের গুলিতে নিহতের সংখ্যাও লাফিয়ে বাড়ছে। সরকারিভাবে সংখ্যাটা ১৯ ছুঁয়েছে। বেসরকারি মতে নিহতের সংখ্যা ২১ ছাড়িয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে ‘‌অতিসক্রিয়’‌ পুলিশ à§«à§«à§«à§® জনকে আটক করেছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করতে বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে নোটিস!‌ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট। স্থানীয়রা ভুগছেন পুলিশি আতঙ্কে। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের নির্মমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় মদতে ‘‌পুলিশি সন্ত্রাস’‌ বন্ধের দাবি তুলেছে ‘‌হম ভারত কি লোগ’‌ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তাদের দাবি, সাম্প্রতিক আন্দোলনে যোগী সরকারের পুলিশ অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে। মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষদের। বিশেষ করে পুলিশের নিশানায় রয়েছেন মুসলিমরা। সিএএ–বিরোধী আন্দোলনে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আক্রমণ নিয়ে সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর, অভিনেতা জিসান আয়ুব, প্রাক্তন আইএএস হর্ষ মন্দর, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং কবিতা কৃষ্ণনরা। স্বরা ভাস্কর বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পুলিশ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। নির্দোষ মানুষদের ওপর বলপ্রয়োগ করছে পুলিশ। আইন–শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপরও অত্যাচার চালাচ্ছে তারা। পুলিশি জুলুম নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। 
যোগেন্দ্র যাদবের দাবি, বেনারসে à§«à§­ জনকে জেলে ভরেছে পুলিশ। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চলেছে। অজানা আশঙ্কায় নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে সেখানকার মানুষ। দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বুধবারই মেরঠের নিহত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কবিতা কৃষ্ণন। তিনি দাবি করেন, মেরঠের চারটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন নিহত ব্যক্তিরা আন্দোলনে ছিলেন না। গলিতে ঢুকে ঢুকে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহতদের অধিকাংশই শ্রমজীবী, গরিব পরিবারের। যদিও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এক আন্দোলনকারীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিশ বলছে, তাদের ওপর কেবল ইট, পাথরই ছোড়া হয়নি, গুলিও চালানো হয়েছে। 
ওদিকে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওল্ড বয়েজ ‌অ্যাসোসিয়েশন সিএএ বিরোধিতায় মোমবাতি মিছিল করেছিল ‌২৪ ডিসেম্বর। পুলিশের অনুমতি না–নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ।  à§§à§ªà§ª ধারা ভাঙার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী ও ছাত্র–‌সহ ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এএমইউ ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি আসলাম খান দাবি করেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ভঙ্গ করা হয়েছে এফআইআর করে। কেন না, ক্যাম্পাসের ভেতরেই মিছিল হয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ক্যাম্পাসের ভেতরে মিছিলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হয় না, যতক্ষণ না বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে।’‌ ‌    
দিল্লি পুলিশের নির্মমতার শিকার হয়েছেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।  à¦ªà¦¿à¦ªà¦²à¦¸ ইউনিয়ন ফর ডেমোক্র‌্যাটিক রাইট (‌‌পিইউডিআর)‌‌ দাবি করছে, গত à§§à§© ও à§§à§« ডিসেম্বর পুলিশের অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার জামিয়া মিলিয়ায় হিংসা সংক্রান্ত অনুসন্ধান রিপোর্ট ‘‌ব্লাডি সানডে ‌২০১৯’‌ প্রকাশ করেন রাধিকা চিতকারা এবং বিকাশ কুমার। এদিকে জামিয়া মিলিয়ায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলা নিয়ে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে রিপোর্ট পেশ করেছেন উপাচার্য। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যাপক মারধর করেছিল পুলিশ। লাইব্রেরিতে  à¦•াঁদানে গ্যাস ছুড়েছিল। সেদিনের ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে জামিয়ার উপাচার্য রিপোর্ট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে। ওই রিপোর্টে ছাত্রদের ওপর দিল্লি পুলিশের নির্মম অত্যাচারের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।‌‌





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck