সমুদ্রের নীচের প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বাঙালি গবেষক

1st January 2020 বিশ্ব
সমুদ্রের নীচের প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন বাঙালি গবেষক


নিউজ ডেস্কঃ আন্টার্টিকা মহাদেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা অনেক হয়েছে। কিন্তু আন্টার্টিক ওশান বা কুমেরু মহাসাগরের জীববৈচিত্র নিয়ে সেভাবে কোনও পরীক্ষা বা কাজ হয়নি। এবার তার উপরই গবেষণা করতে কুমেরু মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন শহরের এক বাঙালি বিজ্ঞানী। নতুন বছরেই সেখানে রওনা দেবেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমিত মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, এই মহাসমুদ্রের যে অঞ্চলে এই গবেষণা করবেন তিনি, সেখানে এর আগে সেভাবে কেউ যাননি। ভারত থেকেও সেখানে কেউ গিয়েছেন বলে মনে হয় না।
সাদার্ন সি এবং আন্টার্টিক ওশান অভিযানের একাদশতম বর্ষে এই বাঙালি বিজ্ঞানীকে বেছে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক। কেন্দ্রের খরচেই কুমেরু মহাসাগরে যে সব জীব রয়েছে, তাদের বাস্তুতন্ত্র (ইকোলজি) নিয়ে যেমন গবেষণা করবেন সুমিতবাবু, তেমনই বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সেই সব প্রাণীদের উপর কোনও প্রভাব পড়ছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। মূলত বেনথিক প্রাণীদের উপরই হবে এই গবেষণা। কারণ এই অঞ্চলের প্রাণীদের নিয়ে বিশেষ তথ্য সেভাবে নেই। বেনথিক প্রাণী কারা? এই বিজ্ঞানীর মতে, যে সব প্রাণী সমুদ্রের মাটির নীচে থাকে, কিন্তু খালি চোখে দেখা যায় না। এরা মূলত চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো প্রাণীদের খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব এই বেনথিক প্রাণীদের উপর পড়ে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে এই প্রাণীদের উপর ইতিমধ্যে গবেষণা হয়েছে। তাই সেখানকার সঙ্গে মেরু অঞ্চলের এমন প্রাণীদের কী তফাৎ, বা তাদের অন্য কোনও বৈশিষ্ট আছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।
এই দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য ভারত সরকার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ ভাড়া করেছে বলে জানা গিয়েছে। মরিশাস থেকে সেই যাত্রা শুরু হবে। গোটা অভিযানের সময়কাল হচ্ছে আড়াই মাস। তবে অন্যান্য জায়গার থেকে এই গবেষণার মূল ফারাক হল, সুমিতবাবুর গবেষণা হবে পুরোটাই জাহাজে। অর্থাৎ, আন্টার্টিকার প্রিদ্স বে’তে (যে অঞ্চল এই গবেষণার জন্য চিহ্নিত হয়েছে) জাহাজে থাকা একটি যন্ত্রের সাহয্যে সমুদ্রের নীচ থেকে মাটি তুলে আনা হবে। তা দিয়েই গবেষণা করবেন সুমিতবাবু। সব মিলিয়ে সেখানে ১০ দিনের বেশি থাকতে পারবেন না তিনি। তারপর দেশে ফিরে সেখান থেকে সংগৃহীত প্রাণীদের এখানে আনা হবে। বাকি কাজ এই বিজ্ঞানীর ল্যাবরেটরিতেই হবে। এই গোটা গবেষণার মেয়াদ তিন বছর।





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck