মোদী কি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত, সব সময় পাকিস্তানের কথা বলেন - কটাক্ষ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

4th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
 মোদী কি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত, সব সময় পাকিস্তানের কথা বলেন - কটাক্ষ বাংলার  মুখ্যমন্ত্রীর


বাংলা খবরঃ নরেন্দ্র মোদি কি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত? তিনি কেন এত পাকিস্তানকে মহিমান্বিত করছেন? শুক্রবার শিলিগুড়িতে এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআরের বিরোধিতায় বিশাল মিছিল শুরুর আগে সভায় এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন বলছেন পাকিস্তানের চর্চা করো। কেন আমরা পাকিস্তানের চর্চা করব?
এদিন এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআরের প্রতিবাদে বিশাল মিছিলের আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার প্রতিবাদ মিছিলের শুরুতে শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড়ের কাছে সরকারি ট্যুরিস্ট লজের সামনে বিপুল জমায়েত হয়। মিছিল শুরুর আগে মিনিট কুড়ির ভাষণে আগোগোড়াই মমতার আক্রমণের নিশানায় ছিলেন মোদি। সভা শেষ করে তিনি মিছিল শুরু করেন। বিশাল মিছিল গিয়ে শেষ হয় বাঘাযতীন পার্কে। সেখানে তিনি বিপুল জমায়েতের সামনে দ্বিতীয় দফার সংক্ষিপ্ত ভাষণেও প্রধানমন্ত্রীকেই নিশানা করেন। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলেরও দাবি জানান। মিছিলে তাঁর সঙ্গে হাঁটেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, গৌতম দেব সহ তাবড় নেতারা। মিছিলে জনপ্লাবন দেখে আপ্লুত মমতা ঘোষণা করেন, যত খুশি গালি দাও, কোনওভাবেই আমাদের এই আন্দোলনকে দমানো যাবে না। ধর্মের নামে দেশকে টুকরো করতে দেব না। আগামী ৯ জানুয়ারি বারাসত- মধ্যমগ্রাম, ২২ জানুয়ারি পাহাড়ে মিছিল হবে।
সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, সিএএ, এনপিআর, এনআরসির নামে মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আজকে আমাদের নতুন করে প্রমাণ করতে হবে আমি এ দেশের নাগরিক কিনা! এটা সবচেয়ে বড় লজ্জা, সভ্যতার লজ্জা, মানবিকতার লজ্জা, গণতন্ত্রের লজ্জা। মমতা বলেন, এখন অধিকারের কথা বললেই বিজেপি নেতারা বলছেন পাকিস্তানে চলে যাও। নরেন্দ্র মোদি আপনি পাকিস্তানের সঙ্গে কেন আমাদের দেশের তুলনা করছেন? আপনার লজ্জা করে না? আপনি কি ওই দেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে এসেছেন যে সবকিছুতে তাদের মহিমান্বিত করছেন? দেশে কী হচ্ছে ! বেকারত্বের কথা, খাদ্যের কথা, শিল্পের কথা, নাগরিক অধিকার কেন ছিনিয়ে নিচ্ছ বললেই বলছে পাকিস্তানে চলে যাও। কেন?
গেরুয়া শিবিরের নেতাদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা সকালে, দুপুরে, বিকেলে এক একজন এক একরকম বলছেন। এখন বলছে বিজেপির মাদুলি চাই। তাহলে নাগরিকত্ব পাবে। মতুয়াদের বলছে নাগরিকত্ব দেবে। আপনারা কি নাগরিক নন, কতবার ভোট দিয়েছেন? তাহলে আবার কিসের নাগরিকত্ব লাগবে? আমি উদ্বাস্তুদের জন্য সবচেয়ে বেশি আন্দোলন করেছি। উদ্বাস্ত কলোনিগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছি।
তূণমূল সুপ্রিমো বলেন, এখন বেশি করে ভোটার লিস্টে নাম তুলুন। ১৫ তারিখ পর্যন্ত সংশোধনের কাজ চলবে। ওরা কায়দা করে সংশোধনের নামে সব ভুল করে দেবে যাতে বাতিল হয়ে যায়। আপনার নাম ঠিক থাকলেও বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তানের নাম ভুল করে দিচ্ছে। আপনারা সব কাজ ছেড়ে দিয়ে এখন ভোটার লিস্টের কাজ করুন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা স্বাধীনতার সর্বনাশ করে দিচ্ছে। এটা আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। চক্রান্তের হাত থেকে, ধর্মান্ধতার হাত থেকে, নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য এ আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ।
এদিন বিপুল জমায়েতে যোগ দিতে শিলিগুড়ি শহর ছাড়িয়ে মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত এবং সংলগ্ন জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন। এদিন মিছিলে যোগ দিতে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় থেকে প্রচুর মানুষ নেমে আসেন। পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মিছিলে হাঁটেন। সাম্প্রতিককালে কোনও সভা বা মিছিলে পাহাড়ের এত মানুষ আসেননি। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মিছিলের মুখ যখন বাঘাযতীন পার্কে পৌঁছে যায়, তখনও শেষ প্রান্ত মহানন্দার ওপারে। এমনকী সভা শেষে মিছিল শুরু হয়ে যাওয়ার অনেক পরে ৩১ নম্বর, ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হাজার হাজার মানুষকে আসতে দেখা যায়।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck