কলকাতা: নতুন বছরের প্রথম তিনমাসে রাজ্য সরকারি দপ্তরের জন্য এক ডজন চাকরির পরীক্ষা নিতে চলেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। এর মাধ্যমে সব মিলিয়ে প্রায় হাজার সাতেক কর্মী নিয়োগ করবে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, সরকারি দপ্তরের শূন্য পদগুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা হোক। তাই নয়া বছরের গোড়াতেই বাড়তি উদ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নেমে পড়েছে পিএসসি। জানা গিয়েছে, আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মোট ১২টি সরকারি চাকরির পরীক্ষা নেবে তারা। যার মধ্যে ক্লার্কশিপ, মিসলেনিয়াস সার্ভিস, ডব্লুবিসিএস সহ একাধিক বড় পরীক্ষা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ১ জানুয়ারি থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হয়েছে। কর্মীদের আর্থিক পাওনা-গণ্ডা মেটানোর পাশাপাশি এবার সরকারি দপ্তরের শূন্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর আরও একাধিক সরকারি দপ্তরের জন্য কর্মী চেয়ে পিএসসি খুব শীঘ্রই বিজ্ঞাপন দেবে বলে জানান ওই কর্তা। উল্লেখ্য, কর্মী নিয়োগে পিএসসি’র দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। অতীতে একটি সরকারি পরীক্ষা নিতে অনেক ক্ষেত্রেই বহু সময় নিয়ে নিত এই নিয়োগকারী সংস্থাটি। তবে সম্প্রতি সেই পরিচিত ছবি বদলানোর ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। নবান্নের অভিজ্ঞ আমলাদের দাবি, এ ভাবে আগে থেকে আসন্ন পরীক্ষার সূচি জানিয়ে দেওয়া হতো না। যার জেরে অনেক সময়ই পিএসসি’র তরফে দু’বছর আগে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের পরীক্ষার নির্ধারিত সূচিও জানা যেত না। পিএসসি’র চেয়ারম্যান দেবাশিস বসু বলেন, কমিশনের কাজে আরও বেশি পেশাদারিত্ব আনতে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি নেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই পিএসসি আয়োজিত পরীক্ষার সম্ভাব্য দিনক্ষণ আগে থেকে আমরা ঘোষণা করা চালু করেছি। যাতে পরীক্ষার্থীরা আগাম প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ পান। স্বচ্ছভাবে পরীক্ষার আয়োজনে কমিশনের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে বলেও জানান পিএসসি প্রধান। চেয়ারম্যানের বক্তব্য, এর মাধ্যমে তাঁর নিজের এবং কমিশনের কর্মী–অফিসারদের কাজের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। যাতে আমরা প্রত্যেকেই সেই অনুসারে কাজ করতে পারি।
আসন্ন এই এক ডজন সরকারি চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞাপন পিএসসি’র তরফে অনেক আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। স্বভাবতই পরীক্ষায় বসতে চেয়ে আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সারা হয়ে গিয়েছে। কমিশনের নয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে ধারাবাহিক এই ১২টি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করে নয়া নজির তৈরি করল এই সাংবিধানিক সংস্থাটি। সূত্রের দাবি, আগামী দিনে এবার থেকে বড় পরীক্ষার পাশাপাশি ছোটখাট সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য দিনক্ষণও আগে থেকে ঘোষণা করে দেবে কমিশন। কয়েক বছর আগে পিএসসি’র বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও না হওয়া একাধিক পরীক্ষা বাতিলের কারণও জানিয়ে দেওয়া হবে। কমিশনের এক কর্তা বলেন, কোনও নির্দিষ্ট পদের জন্য পিএসসি বিজ্ঞাপন দিলেও পর্যাপ্ত আবেদনপত্র না আসায় সেই পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। কয়েকটি পদ অবলুপ্ত হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। সেগুলি এখন কমিশনের তরফে জানানো হবে।