রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকে ৫০টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়বে রাজ্য

5th January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকে ৫০টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়বে রাজ্য


  বাংলা খবরঃ রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পঠনপাঠনের মান উন্নত করতে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়বে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৫০টি ব্লকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একেবারে প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠনপাঠনের জন্য এই স্কুল তৈরি করা হবে। অত্যাধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত এইসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে হস্টেলের ব্যবস্থাও থাকবে। এই খবরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হলে সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা ইংরেজিতে আরও বেশি সড়গড় হতে পারবে। ফলে আগামী দিনে সরকারি চাকরি সহ যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজ্য সভাপতি তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারাদ বলেন, ২০১১ সালের পরিবর্তনের পর রাজ্যে সংখ্যালুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সারা দেশের কাছে কার্যত বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হলে সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা আরও বেশি করে উপকৃত হবে। ফলে আগামী দিনে তাদের ভবিষ্যৎ আরও সুগঠিত হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরির বিষয়ে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে চিঠি দেন। এরপর মাদ্রাসা বিষয়ক দপ্তর থেকে ওই চিঠির কপি সহ জেলায় জেলায় চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি করতে চাইছে। যেখানে প্রাক প্রাথমিক স্তর থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠনপাঠন করানো হবে। ওই স্কুলে হস্টেলের সুবিধার পাশাপাশি খেলার মাঠ, বাগান, অডিটোরিয়াম সহ অন্যান্য পরিকাঠামো থাকবে।
এই স্কুল তৈরির জন্য জমি দেবে রাজ্য সরকার। স্কুলের জন্য বাড়ি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর পঠনপাঠন চালানোর জন্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী দেবে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এছাড়া স্কুল পরিচালনার জন্য রেকারিং খরচও শিক্ষা দপ্তর দেবে। প্রতিটি স্কুল তৈরির জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকগুলিতেই এইসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ে তোলা হবে। রাজ্যে মোট ৫০টি স্কুলের মধ্যে বর্ধমান জেলায় চারটি, বীরভূমে চারটি, দক্ষিণ দিনাজপুরে দুটি, দার্জিলিংয়ে দুটি, হাওড়ায় চারটি, হুগলিতে দুটি, জলপাইগুড়িতে দুটি, কোচবিহারে দুটি, মালদহে দুটি, মুর্শিদাবাদে ছ’টি, নদীয়াতে চারটি, উত্তর ২৪ পরগনাতে চারটি, পশ্চিম মেদিনীপুরে দুটি, পূর্ব মেদিনীপুরে দুটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে ছ’টি ও উত্তর দিনাজপুরে দুটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আধিকারিকদের দাবি, বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল খুব বেশি নেই। তাছাড়া বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানোর মতো অনেকের সামর্থ নেই। তাই বহু ক্ষেত্রে ইচ্ছে থাকলেও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলে বা মেয়েকে পাঠানো কার্যত দিবাস্বপ্ন বলেই ভাবতেন অনেক মানুষ। বিত্তশালীরাই ছেলে ও মেয়েদের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতে পারতেন। ব্লকে সরকারি উদ্যোগে এই স্কুল হলে কার্যত বিনামূল্যেই সংখ্যালঘু মানুষরা ছেলে ও মেয়েকে পড়াতে পারবেন। সংখ্যালঘু এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মতোই বিভিন্ন সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলেও রাজ্য সরকার ইংরেজি মাধ্যমে পঠনপাঠন চালু করেছে। রাজ্য সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সময়ের দাবি মেনে ইংরেজি মাধ্যমেও পঠনপাঠনের পরিকাঠামো তৈরি করছে।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck