রাজ্যে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুরে পিনকন চিটফান্ডে প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

5th January 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
রাজ্যে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুরে পিনকন চিটফান্ডে প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু


বাংলা খবরঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আদালতের হস্তক্ষেপে পিনকন চিটফান্ডে প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হল। শুক্রবার থেকে তমলুকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আমানতকারীদের ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে। চিটফান্ড প্রতারণা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আমানতকারীদের রক্ষাকবচ হিসেবে নতুন আইনে রা঩জ্যের মধ্যে প্রথম এই জেলায় পিনকন গ্রুপের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল তমলুকের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের থার্ড কোর্ট। অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালত হিসেবে ওই কোর্টের বিচারক মৌ চট্টোপাধ্যায় গত ৫ডিসেম্বর ওই নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা প্রক্রিয়াটি আদালতের হস্তক্ষেপে হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের ২৬টি থানা এলাকায় পিনকন গ্রুপের প্রায় ৪০হাজারের বেশি আমানতকারী আছেন। আদালতের হস্তক্ষেপেই আমানতকারীদের ফর্ম বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্র ও শনিবার দু’দিন ফর্ম সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
আর্থিক অপরাধ দমন শাখা নিযুক্ত স্পেশাল পিপি সৌমেনকুমার দত্ত বলেন, রাজ্যে এই প্রথম নতুন আইনে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। খেজুরি থানা এলাকায় ওই আইনে মামলা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের তৃতীয় কোর্ট অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালত হিসেবে এই নির্দেশ দিয়েছে। এই ঩নির্দেশ গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রে নজির তৈরি করল। আগামী ২০ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফর্ম বিতরণ হবে। আর ২০জানুয়ারি থেকে ফর্ম জমা নেওয়া হবে। জমা করার সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র যুক্ত করতে হবে।
২০১৫সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোটেকশন অব ইন্টারেস্ট অব ডিপোজিটরস ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাব্লিসমেন্ট অ্যাক্ট লাগু হয়। ওই আইনে আমানতকারী প্রতারণার অভিযোগ করলে তা ইকোনমিক অফেন্স বিভাগের অধিকর্তা তদন্ত করবেন। পিনকন গ্রুপের বিরুদ্ধে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রথম খেজুরি থানায় আমানতকারীদের একটা অংশ নতুন আইনে ২০১৭সালে অভিযোগ করেন। নতুন আইনে পুলিসের পরিবর্তে আর্থিক অপরাধ দমন শাখার অধিকর্তা ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য তমলুকের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের তৃতীয় আদালতে ওই মামলার শুনানি চলে। সেখানে পিনকন গ্রুপের বোর্ড অব ডিরেক্টরের গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের হাজির করানো হয়।
আদালতের নির্দেশে তমলুকের এসবিআই ব্যাঙ্কে কোর্টের অ্যাক্যাউন্ট্যান্ট এবং বেঞ্চ ক্লার্কের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই গ্রুপের অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত টাকা তমলুকের এসবিআই শাখায় আনা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দেওয়া হবে।
শুক্রবার নন্দীগ্রাম, ভগবানপুর, দীঘা ও তমলুক থানার প্রায় ৬০০ আমানতকারী কোর্ট চত্বর থেকে আদালতের সই ও স্বাক্ষরিত ফর্ম সংগ্রহ করেছেন। শনিবার পটাশপুর, শহিদ মাতঙ্গিনী এলাকার হাজারের বেশি আমানতকারী ফর্মের জন্য লাইন দেন। শুক্রবার দু’টি কাউন্টার খোলা ছিল। শনিবার ফর্ম বিতরণের কাউন্টার সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে চারটি করা হয়। ৬জানুয়ারি হলদিয়ার ভবানীপুর ও পাঁশকুড়ার আমানতকারীরা এগরা এবং সুতাহাটার আমানতকারীরা ৭জানুয়ারি, হলদিয়া এবং পাঁশকুড়ার আরএকটি অংশের আমানতকারীরা ৮জানুয়ারি, ময়না থানার একাংশ এলাকার আমানতকারীরা ৯জানুয়ারি, দুর্গাচক, ভুপতিনগর এলাকার আমানতকারীরা ১০জানুয়ারি, ময়নার অবশিষ্ট এলাকার আমানতকারীরা ১৩তারিখ, মারিশদার আমানতকারীরা ১৭তারিখ, রামনগরের ক্ষেত্রে ১৮জানুয়ারি, কাঁথির আমানতকারীরা ২০জানুয়ারি, চণ্ডীপুরের আমানতকারীরা ২১জানুয়ারি, নন্দকুমাব থানা এলাকার আমানতকারীরা ২২ ও ২৪তারিখ, কোলাঘাটের আমানতকারীরা ২৭তারিখ, খেজুরির আমানতকারীরা ২৮, ৩১জানুয়ারি এবং ১ফেব্রুয়ারি, নন্দীগ্রামের আমানতকারীরা ৪, à§«, ৬ ও ৭ফেব্রুয়ারি কোর্ট থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পিনকন গ্রুপে যে টাকা রাখা হয়েছিল, সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তার একাংশ তুলে নিলে ব্যালান্স দেওয়া হবে। সুদ পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র আমানতকারীরাই ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। এজন্য পরিচয়পত্র এবং টাকা আমানতের সার্টিফিকেটের জেরক্স কপি আনতে হবে। ৫০হাজার টাকার বেশি হলে প্যান কার্ডের জেরক্স দিতে হবে। আদালত থেকে সংগ্রহ করা ফর্মই জমা করতে হবে। ফর্ম দেওয়া এবং নেওয়ার কাজ শেষ হবে ৩জানুয়ারি থেকে ২০ফেব্রুয়ারির মধ্যেই। আমানতকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। নগদে টাকা দেওয়া হবে না। সমস্ত ফর্ম ও নথি যাচাই করে আমানতকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে মিথ্যা আবেদন ও মিথ্যা নথি দাখিল করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck