উত্তর প্রদেশের শিশু ডাক্তার কাফিল খান যিনি নিজের চেষ্টায় বহু শিশুর প্রান বাঁচিয়েছিলেন , সেই ডাক্তারকেই সরকারি হাসপাতালে ৬০ শিশুর মৃত্যুর দায়ে জেল বন্দি করেছিল জোগি সরকার । দীর্ঘদিন জেল বন্ধী থাকাকালিন তাঁর উপর অত্যাচার করে পুলিশ । কিন্তু বিচারে তিনি নির্দোষ প্রমানিত হন । কিন্তু তবুও তাঁকে মুক্ত না করে তাঁর উপর চলত অত্যাচার । তিনি খোলা চিঠি দেন যে , যোগীর আদেশে তাঁকে বিনা অপরাধে বন্দী করে নির্যাতন করা হচ্ছে । সোশ্যাল মিডিয়াতে উঠে ঝড় । বাধ্য হয়ে তাঁকে মুক্তি দেয় ।
আবার একি পরিস্থিতি , গত বছর আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে একটি সভায় সিএএ ও এনআরসি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি৷ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে থাকে একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ সেই মামলাতেই তিনি জামিন পান৷ যদিও, এখনও তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি৷ সেই এফআইআর-এ বলা হয়েছিল, গত বছর ডিসেম্বর মাসে তিনি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যার জন্য শান্তি বিঘ্নিত হয়েছিল৷ এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার দু’দিন পরেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি ছড়ায়৷ এই সবের পিছনেই কাফিল খানের বক্তব্যের ভূমিকা আছে বলে মনে করছে প্রশাসন৷ তাই কাফিল খানের কার্যকলাপ দেশে নিরাপত্তার অভাব তৈরি করতে পারে ও অশান্তি ছড়াতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে, প্রশাসনের মত এমনই৷
কিন্তু বুদ্ধিজীবী সমাজ মনে করেন , মুসলিম হওয়ার কারনে তাঁর উপরে এমন নির্যাতন করা হচ্ছে । তিনি মুসলিম হওয়ার কারনে CAA ও NRC এর বিরোধিতা করে বক্তব্য রেখেছিলেন যা মোদী সরকারের পছন্দ হয় নি । ১৫ ই জুলাই তাঁর মুক্তির দাবীতে সারা ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনের ঝড় চলছে । এখন দেখার বিচারক কি রায় দেন ?