পূর্ব মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে হু হু করে

17th July 2020 12:06 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পূর্ব মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত বাড়ছে হু হু করে


পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন আরও ৩৩জন। আক্রান্তদের সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকায় কাঁথিতে জেলার তৃতীয় করোনা হাসপাতাল চালু হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকেই সেখানে আক্রান্তদের ভর্তি শুরু হবে। জেলায় কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা আর এক দফায় বাড়িয়ে এদিন নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ। করোনা সংক্রমণ বেশি হওয়ায় ২২ জুলাই পর্যন্ত পাঁশকুড়া পুরসভা বন্ধ করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের একজন ও পাঁশকুড়ার এক হোটেল মালিক কলকাতায় মারা গিয়েছেন।
এদিন তমলুক পুরসভায় একটি বৈঠকে ঠিক হয়েছে, সপ্তাহে সোম, বুধ, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরে দোকানপাট, হাটবাজার খোলা থাকবে। বেলার ১১টার পর বন্ধ করতে হবে। আর মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে। আজ, শুক্রবার দোকানপাট খোলা থাকবে। শনিবার সারাদিন বন্ধ। রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে।
নন্দীগ্রাম-১ব্লকের হরিপুর বাসস্টপেজ এলাকার করোনায় আক্রান্ত এক মহিলা বুধবার দুপুরে কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। এর আগে হলদিয়ার একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে কলকাতায় রেফার করা হয়। মারা যাওয়ার পর ওই মহিলার পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নন্দীগ্রামের ডেপুটি সিএমওএইচ-২ সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, হরিপুরে একজন কলকাতায় করোনা পজিটিভ অবস্থায় মারা গিয়েছেন। অন্যদিকে, পাঁশকুড়ার দক্ষিণ মেচগ্রাম সিংপাড়ার এক হোটেল মালিক দিন চারেক আগে কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন।
তমলুক পুরসভার ১৫নম্বর ওয়ার্ডে টাউন শঙ্করআড়া এলাকায় চার মাসের এক শিশু ও তার মায়ের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। ওই শিশুর হার্টের সমস্যা আছে। তার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। তার আগে করোনা টেস্ট করাতেই পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর মায়ের টেস্ট হলে তাঁরও রিপোর্ট পজিটিভ আসে। দু’জনকেই পাঁশকুড়ার বড়মা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভগবানপুর-১ব্লকে বিভীষণপুর গ্রামে ৫১বছর বয়সি একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। ওই ব্লকে খেজুরআড়ি গ্রামে ৩২বছর বয়সি এক যুবকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এগরা-২ব্লকে দুলালপুর গ্রামে দু’জন এবং ঘোল দুবদা গ্রামে একজন করোনা পজিটিভ। এগরা-১ব্লকে জেড়থান গ্রামে এক যুবক করোনায় আক্রান্ত। হলদিয়া শহরে সিটি সেন্টার এলাকায় চারজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও হলদিয়ার মোহনা সুপার মার্কেট, ব্রজলালচক, বাড় ঘাসিপুর এলাকার একজন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
ময়না ব্লকের কিয়ারানা গ্রামে এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং তাঁদের ১৮বছরের মেয়ে করোনায় আক্রান্ত। ওই প্রৌঢ় ঠাকুরপুকুরে চানাচুর ফাক্টরিতে কাজ করেন। নিয়মিত বাসে যাতায়াত করতেন। আজ আক্রান্ত দম্পতির পরিবারের অন্য সদস্য এবং তাঁদের চিকিৎসা করা এক কোয়াক ডাক্তারের নমুনা নেওয়া হবে।
পাঁশকুড়া থানার দক্ষিণ মেচগ্রামে করোনা আক্রান্ত মৃত হোটেল মালিকের দাদা এবং বড় ছেলের রিপোর্টও পজিটিভ। পাঁশকুড়া পুরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডে মধুসূদনবাড় এলাকায় একজন করোনা পজিটিভ। পাঁশকুড়া ব্লকে পীতপুর, চাঁইপুর গ্রাম সহ ওই ব্লকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সাতজন। ওই ব্লকে খোসটিকুরি গ্রামে দু’জন, জামিট্যা গ্রামে দু’জন, খারুই গ্রামে একজন এবং বলরামপুর গ্রামে দু’জন করোনায় আক্রান্ত। তমলুক ব্লকে নীলকুণ্ঠ্যা গ্রামে একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck