অক্সফোর্ডের করোনা টিকার পরীক্ষা হবে ভারতেও

21st July 2020 10:50 am বিশ্ব
অক্সফোর্ডের করোনা টিকার পরীক্ষা হবে ভারতেও


‌ প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই পাশ করে গেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনার টিকা। এর প্রয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ। সেই সঙ্গে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সক্ষম। এবার সেই টিকাই ভারতেও মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু হবে। লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষা। ব্রিটেনে এই গবেষণায় সহযোগিতা করেছে একটি ভারতীয় সংস্থা। তারাই ভারতে প্রয়োগের ব্যবস্থা শুরু করবে। 
অক্সফোর্ডের তৈরি এই টিকা চিকিৎসক মহলে আশার আলো জাগিয়েছে। এর তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। সেই সঙ্গে টি–সেল তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই টিকা প্রয়োগে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্যারাসিটামল খেলেই তা ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তাই চিন্তার কিছু নেই।
বিশ্বে টিকা তৈরির সবথেকে বড় সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। তারাও অক্সফোর্ডের এই গবেষণায় সহযোগিতা করেছে। সংস্থার প্রধান আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ‘‌এই টিকা মানবদেহে প্রয়োগের ফল ইতিবাচক হয়েছে। আমরা দারুণ খুশি। ভারতে মানবদেহে এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করছি নিয়ামক সংস্খার কাছে। অনুমতি পেলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। খুব শিগগিরই উৎপাদনও শুরু হবে।’‌  
ইতিমধ্যে ভারতের তৈরি করোনা টিকা কোভ্যাক্সিনেরও মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। এইমস–এর প্রধান ডা.‌ রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের নথি হাতে আসতে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। অক্সফোর্ডের তৈরি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় ২৩ এপ্রিল। চীন এবং আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার তৈরি আরও সাতটি টিকারও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। তবে এগিয়ে ছিল অক্সফোর্ডের টিকাই। তবে কবে এই ভ্যাকসিন বাজারে আসছে, তার জবাব মেলেনি। এ বছর কিংবা আগামী বছরের গোড়ায় পাওয়া যাবে প্রতিষেধক? রিপোর্ট প্রকাশের আগেই খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘‌কথা দিতে পারছি না!’





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck