মতবাদের দোহাই দিয়ে চিনে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নতুন কিছু নয়। কমিউনিস্ট দেশটিতে ‘শিক্ষা’ ও ‘মৌলবাদ দমনের’ নামে উইঘুর মুসলিমদের থেকে শুরু করে খ্রিস্টানদের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এবার আরও একধাপ এগিয়ে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের যিশুর বদলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে বেজিং।
গত বছর বিতর্ক উসকে মুসলমানদের মধ্যে ‘সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ দৃঢ় করতে নতুন করে কোরান লেখার নির্দেশ দেয় চিন। শুনতে অবাক লাগলেও, বেজিংয়ের সাফ কথা, সমস্ত ইসলামিক গ্রন্থের পুনর্মূল্যায়ণের সময় এসেছে। কমিউনিস্ট পার্টির এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, নয়া কোরানে এমন কোনও কথা লেখা থাকবে না যা দেশ ও দলের মতবাদের পরিপন্থী। বর্তমানের ইসলামিক ধর্মগ্রন্থটি থেকে ‘মৌলবাদে উসকানি’ দেয় এমন সমস্ত পরিচ্ছদ বাদ দেওয়া হবে। গত নভেম্বর মাসেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ‘জনজাতি ও ধর্ম বিষয়ক কমিটি’।
শুধু কোরান নয়, বাইবেলেরও নয়া সংস্করণ তৈরি করতে চলেছে চিন। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘুদের ধার্ম ও আচারে কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামিক সন্ত্রাসে অশান্ত জিনজিয়াং প্রদেশ নিয়ে উদ্বেগে ভুগছে বেজিং। ফলে সমস্ত মসজিদ ও ধার্মিক অনুষ্ঠানে কড়া নজর রেখেছে সে দেশের প্রশাসন। উল্লেখ্য, উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চিনা প্রশাসনের নীতি বিশ্বের অজানা নয়। ‘শুদ্ধিকরণের’ নামে জিনজিয়াং প্রদেশের প্রায় ১০ লক্ষ উইঘুরকে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বা বন্দি শিবিরে রাখা হয়েছে।