নানুর দিবস কেন পালম করা হয় জেনে নিন

27th July 2020 6:55 pm পশ্চিমবঙ্গ
নানুর দিবস কেন পালম করা হয় জেনে নিন


 à¦¬à§€à¦°à¦­à§‚ম জেলার নানুর ব্লক.... অজয় নদী আর ময়ূরাক্ষী নদীর মাঝে প্রকৃতির রোষে প্রভাবিত ( খরা এবং বন্যা উভয় দুর্যোগের বলি ), অর্থনৈতিক ভাবে ভীষন পিছিয়ে পড়া,অনুশুচিত জাতি ও মুসলিম অধ্যুষিত ২৪ টি গ্রাম নিয়ে এই নানুর ব্লক.... কৃষিকাজ কে অবলম্বন করে এই এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার নিত্য দিনের সংগ্রাম.... নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত কিছু কৃষক পরিবার ( যাদের নিজস্ব চাষের জমি আছে) ছাড়াও এই এলাকায় প্রচুর কৃষি মজুর ও ভাগচাষি মানুষের বাস ... নানুর ব্লকের অন্তর্গত এই ২৪ টি গ্রামের মধ্যে একটি হলো "সুচপুর" গ্রাম ... বাংলার লাল শাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় লাল হার্মাদ বাহিনির নগ্ন, অসহনীয়, নির্মম হত্যালীলার জীবন্ত দলিল হয়ে যে গ্রামের মাটি আজ সারা বাংলার মানুষের কাছে শহীদের পূন্য ভুমি হিসেবে পরিচিত...

তৃণমুল দল পাশকুড়া উপ নির্বাচনে জয় লাভ করার পর সারা বাংলা জুড়ে লাল পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটা দিশা নির্ণয় হয়ে যায়, যার পুরোভাগে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা দিদির উপস্থিতি একটা অন্য মাত্রা দেয় বাংলার অত্যাচারিত অসহায় মানুষ জনের কাছে , তারা তাদের স্বপ্নের বাস্তবতার আশার আলো খুজে পায় মমতাদির লাল পার্টির বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রামে।সারা বাংলায় মমতা দিদিকে সামনে রেখে মানুষ জোট বাধ্তে শুরু করে লাল পার্টির বিরুদ্ধে। গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে থাকে তৃণমূলের সংগঠন... সমাজের পিছিয়ে পরা জাতি এবং সংখালঘুরা মমতা দিদির দলের ছাতার তলায় একত্রিত হতে শুরু করে.... প্রমাদ গোনে লাল পার্টি... !!!

নানুর ব্লকের সুচপুর গ্রামেও কিছু কৃষক পরিবার তৃণমূলের পতাকা নিয়ে সি পি এমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন... তাদের ভয় দেখিয়ে , মারধোর করে, হুমকী দিয়েও যখন বিরত করা গেলো না, তখন লাল হার্মাদরা তাদের ভাতে মারার পরিকল্পনা নিলেন.... গ্রামের সেই সব পরিবারের জমিতে কাজ করার মজুরদের আটকে দিলেন... তাদের ভয় দেখানো হলো যে তৃণমুল সমর্থক পরিবারের জমিতে কাজ করলে তাদের গ্রাম ছাড়া করা হবে.... এই ভাবে সি পি এম দল তৃণমুল সমর্থক পরিবার গুলোকে গ্রামে এক ঘরে করে দেওয়ার প্রয়াস শুরু করে দিলো.... এর মধ্যে একজন তৃণমুল কৃষক নিতান্ত নিরুপায় হয়ে পাশের এলাকা থেকে ১১ জন মজুরকে প্রায় হাতে পায়ে ধরে রাজী করিয়ে নিয়ে আসেন তার জমির কাজ করার জন্য......

২০০০ সালের ২৭ জুলাই সকালে যখন সেই মজুররা তৃণমুল সমর্থক কৃষকের জমিতে কাজ করতে শুরু করেছেন ঠিক সেই সময়ে লাল হার্মাদ বাহিনীর নরপিশাচ সশস্ত্র জল্লাদরা নারকীয় উল্লাসে সেই ১১ জন অসহায় অভাগা মানুষগুলিকে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করে রক্তের হোলী খেলায় মেতে ওঠে....!!! নিরাপরাধ ঐ ১১ জন মজুর জানতেই পারলো না কী তাদের অপরাধ....!!! ১১ টি অভাগা পরিবার এক সাথে নিস্ব অনাথ হয়ে গেলো ...!! মুহুর্তের মধ্যে স্বামীহারা , পিতা হারা হয়ে গেলো কত জন....!! বিরলতম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে সারা বাংলা লজ্জায় নতমস্তকে নিজেদের অসাহয়তার অভিজ্ঞতা অর্জন করলো...!!

পরবর্তীকালে ঘটনার মুল সাক্ষী আব্দুল খালেককে খুন করার চেষ্টা করে লাল হার্মাদরা ... এবং অন্যান্য সাক্ষীদের ভয় দেখানোর কাজও চলতে থাকে.... ২০০৩ এর পঞ্চায়েত ভোটে অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন কে সি পি এম দল প্রার্থীও করেন... এবং সরকারি অনুগ্রহে মামলা প্রায় ঠান্ডা ঘরে চলে যায়...!!!

২০০৯ এর লোকসভা ভোটের পর যখন আস্তে আস্তে বাংলার রাজ নৈতিক পট পরিবর্তনের চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে আসছে ঠিক তখন সাক্ষীরা আবার সাহস ফিরে পায় এবং আদালতে বিচারের প্রক্রিয়া গতি পায়... বিচার প্রক্রিয়া শেষে ৪ জন সি পি এম দলের সক্রিয় কর্মী সহ ২১ জন সি পি এম সমর্থকের যাবজ্জীবন হাজত বাসের আদেশ হয়....

আজ সেই অভিশপ্ত দিন,তাই সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর দ্বারা নিহত হওয়া শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই ।

 





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck