কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ভর্তি ব্যাগ ফেরাল দুটি বাচ্চা ছেলে

2nd August 2020 8:19 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ভর্তি ব্যাগ ফেরাল দুটি বাচ্চা ছেলে


ঘাটালঃ কতই বা বয়স। এক জনের এগারো বছর। আরেক জনের আট বছর। অভাবের সংসার। তবু টাকা ভর্তি ব্যাগ কুড়িয়ে ফেরত দিল ঘাটাল শহরের দুই বালক। ব্যাগে ছিল নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা,  একাধিক লটারির উইনিং টিকিট (পুরস্কার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা) আর  জরুরি কাগজপত্রও ছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলা করছিল দুই বালক। খেলার ফাঁকেই একটি ব্যাগ কুড়িয়ে পায় তারা। ব্যাগে টাকা দেখেই সটান বাড়ি চলে যায় ঘাটাল শহরের ফাঁড়ি লাগোয়া কোন্নগরের রাজিবুল মল্লিক এবং শাহরুখ মল্লিক। রাজিবুল পঞ্চম শ্রেণি এবং শাহরুখ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। পাশাপাশি বাড়ি দু’জনের। টাকার ব্যাগ তাদের বাবা-মায়ের হাতে দিয়ে দুই বন্ধুই বলে, “এই টাকা লোকের। খরচ করা চলবে না। যাঁর টাকা তাঁকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে।” ছেলেদের কথায় খুশি হয়েছিলেন রাজিবুলের বাবা নুর মল্লিক এবং শাহরুখের বাবা শাহআলম। ওই ব্যাগের মালিক ঘাটাল থানার মসরপুরের লটারি বিক্রেতা  রাজু প্রামাণিক। বৃহস্পতিবার রাজুকে বাড়িতে ডেকে তাঁর হাতে খোওয়া যাওয়া ব্যাগ তুলে দেয় দুই বালকের পরিবার। ব্যাগ হারানোর কথা সমাজমাধ্যমে দিয়েছিলেন রাজু। সেই সূত্রেই রাজুর খোঁজ পেয়েছিল দুই পরিবার। ব্যাগ ফেরত পেয়ে খুশি রাজু। তাঁর কথায়, “ব্যবসার মূলধন ছিল ওই ব্যাগে। মঙ্গলবার থেকে ব্যাগের সন্ধান করি। সমাজমাধ্যমেও আবেদন করি। দুই বালক ও তাদের পরিবারের সততা দেখে খুব ভাল লাগছে।”

 à¦ªà§à¦²à¦¿à¦¶ সূত্রে খবর, দুই পরিবারই অভাবী। রাজিবুলের বাবা অন্যের মাংস দোকানে কাজ করেন। শাহরুখের বাবা সাইকেল সারাইয়ের কাজ করেন। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের এই সততায় খুশি পড়শিরাও। রাজিবুল এবং শাহরুখ দু’জনের কথায়, “এত টাকা কোনও দিন দেখিনি। তবে অন্যের টাকায় লোভ করা পাপ। তাই যাঁর টাকা তাঁকে ফেরত দিতে পেরে ভাল লাগছে।”





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck