শাহিনবাগে আসুন, প্রধানমন্ত্রীকে পোস্টকার্ড মহিলাদের

19th January 2020 ভারত
শাহিনবাগে আসুন,  প্রধানমন্ত্রীকে পোস্টকার্ড মহিলাদের


নিউজ ডেস্কঃ কখনও স্লোগান উঠছে, ‘কালা কানুন ওয়াপস লো’। কখনও বা সকলে গলা মেলাচ্ছেন, ‘আজাদি’-র আওয়াজে। দিল্লির কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে এ ভাবেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের করা আইনের বিরোধিতায় রাতের পর রাত কাটাচ্ছেন শাহিনবাগের মহিলারা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন , প্রস্তাবিত জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার (এনপিআর) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় তাঁরা। এ বার শাহিনবাগের মহিলাদের দাবি, এক বার তাঁদের মাঝে এসে আলোচনা করুন প্রধানমন্ত্রী। হোক ‘চায়ে পে চর্চা’! চা-পান করতে করতে এ আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু হোক তর্ক-বিতর্ক। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে অজস্র চিঠি লিখছেন শাহিনবাগের মহিলারা।

হলদেটে পোস্টকার্ডের কোনওটায় লেখা, ‘‘নো সিএএ-এনআরসি-এনপিআর’’, কোনওটায় বা রয়েছে, ‘‘সংবিধান বাঁচাতে বসেছি’’, কখনও উঠে এসেছে সেই অমর লাইন, ‘‘হিন্দি হ্যায় হম’’। এ সবই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠাবে শাহিনবাগ। উদ্দেশ্য একটাই, প্রধানমন্ত্রীকে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কী সেই বার্তা? প্রায় সকলে চিঠি-পোস্টকার্ডে ভেসে উঠেছে একটাই চিন্তা। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ দেশে নিরাপদে থাকতে পারবে তো? এ দেশের নাগরিক হিসাবে বেঁচেবর্তে থাকবে তো? বছর পঞ্চাশের এক মহিলার কথাতেও উঠে এল সেই আশঙ্কার কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মহিলা বলেন, ‘‘খুব জরুরি সময়েই আমরা চিঠি লিখতে বসি। এটা এমনই এক সময়, যখন আমরা নিশ্চিন্ত হতে চাই যে ধর্মের জন্য আমাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব যাতে কেড়ে নেওয়া না হয়।’’ নিজের আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমার বয়স হয়েছে, কিছু দিন পরে মরেও যাব। কিন্তু আমার সন্তানেরা, নাতিনাতনিরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দোরগোড়ায়। লোকের মনে ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার ভয় হয়ে গিয়েছে।’’ এমন সব আশঙ্কাকে দূর করতেই প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস চায় শাহিনবাগ। মোদীর প্রতি ওই মহিলার আহ্বান, ‘‘দেশের প্রধানমন্ত্রীকে শাহিনবাগে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, আমাদের সঙ্গে চা খেতে খেতে দেখুন আমাদের লড়াই, শুনে যান আমাদের দুশ্চিন্তার কথা।’’

নিজেদের দুশ্চিন্তার পাশাপাশি শাহিনবাগের প্রশ্ন, ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-এর কথা কী ভাবে এক সারিতে থাকবে সিএএ বা এনআরসি-র মতো আইনের প্রয়োগ? তাই একটি পোস্টকার্ডে সরাসরি দাবি করা হয়েছে, ‘‘এটা কালা কানুন, একে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। আমরা সংবিধান বাঁচাতে এখানে বসেছি।’’





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck