পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে - মুখ্যমন্ত্রী

25th September 2020 5:31 pm পশ্চিমবঙ্গ
পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে - মুখ্যমন্ত্রী


 কলকাতা: পুজোর আনন্দে ভাগ বসাবে না করোনা। তৃতীয়া থেকেই খুলে যাবে পুজোমণ্ডপ। ঠাকুর দেখা যাবে সারা রাত। একাদশী পর্যন্ত। তবে বিধিনিষেধ মেনে। লকডাউনের পর এই প্রথম বিপুল জমায়েতের সামনে এসে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ছিল  পুলিস, প্রশাসন এবং পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক। সেখানেই কমিটিগুলির জন্য আর্থিক অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়ে করলেন ৫০ হাজার টাকা। শুধু একটি বিষয়ে সতর্ক শোনাল তাঁর গলা, ভিড় কমাতেই হবে। কমিটিগুলিকে বললেন, অঞ্জলির জন্য প্রত্যেককে আলাদা আলাদা দাঁড় করাবেন। প্রয়োজনে দু’-তিনবার হবে। একই ব্যবস্থা থাকবে প্রসাদ বিতরণে। সিঁদুর খেলাও দু’-তিনটি ভাগে করবেন। আলাদা সময়ে। বিসর্জনের শোভাযাত্রা একদিনে করা যাবে না। হবে না রেড রোডের কার্নিভালও।
রাজ্যে সাড়ে ৩৭ হাজার পুজো হয়। কলকাতায় সংখ্যাটা আড়াই হাজার। সব পুজো প্যান্ডেলের জন্য এদিন একাধিক নিয়ম নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দিয়েছেন পুজো উপহার হিসেবে একের পর এক ছাড়। দমকল, পুরসভা বা পঞ্চায়েত ইত্যাদি যাবতীয় প্রশাসনিক অনুমতির জন্য কোনও ফি দিতে হবে না পুজো উদ্যোক্তাদের। পুজোর দিনগুলির জন্য নেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগের বিলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে সিইএসসি এবং রাজ্য বণ্টন সংস্থা। পুজোর অনুমতি মিলবে অনলাইনে ‘আসান’-এর মাধ্যমে। ২ অক্টোবর থেকে এই ব্যবস্থা চালু হবে। এ প্রসঙ্গে পুলিসের উদ্দেশে মমতা বলেন, ১০ বছরের বেশি পুজো হয়ে গিয়েছে, সেই কমিটিদের এবার অনুমতি দিয়ে দিতে হবে। তবে বিসর্জনে বেশি ভিড় করা যাবে না।
কমিটিগুলিকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, এবারের পরিস্থিতি অন্যবারের থেকে আলাদা। খোলামেলা মণ্ডপ করতে হবে। যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ আলাদা হবে। দরকারে গোল দাগ কেটে দিতে পারেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফেসশিল্ড পরা স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যাও বাড়ান। একসঙ্গে বেশি গাড়ি যেন মণ্ডপ চত্বরে না ঢোকে। অনলাইনে ঠাকুর দেখা এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিচারকরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত আসবেন। আর্জি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকার জন্যও। আর এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদের। বলেছেন, ‘খেয়াল রাখতে হবে, কোনওভাবেই যেন পুজোর জন্য সংক্রমণ না বাড়ে। ভিড় হলে বলবে, এই দেখ পুজোর জন্য হল। কোনও উত্সবই এবার ঠিক মতো আয়োজন করা যায়নি। রেড রোডে নামাজও পড়তে পারেননি ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। আমরা পুজো নিয়ে রাজনীতি করি না। কিন্তু অনেকে শকুনির মতো বসে আছে। কিছু বললেই বলবে পুজো করতে দিচ্ছে না। যারা বলে তাদের তো কোনও দায় নেই। যারা সরকারে আছে, তাদের দায়।’ এদিনের অনুষ্ঠানে ছিল সর্বধর্ম সমন্বয়ের ছবি। কয়েকজন পুরোহিতের হাতে শংসাপত্র ও দু’মাসের ভাতার টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দলিত ও হিন্দি অ্যাকাডেমিকে ৫ কোটি টাকা করে অনুদান তুলে দেন। তাঁর শেষ কথা একটাই, ‘করোনা হারবে, বাংলা জিতবে।’





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck