কলকাতা: স্বজনপোষণের সম্ভাবনা গোড়া থেকেই ছেঁটে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একেবারেই চান না, এ নিয়ে কোনও অভিযোগ আসুক। আর তাই সেই লক্ষ্যে এবার কোপ পড়ছে জনপ্রতিনিধিদের পরিবারে। রীতিমতো নিয়োগে অনুমোদনকারী সংস্থাকে দিয়েই এই ‘ছাঁকনি’র কাজ করাতে চাইছে রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের ১২৫টি পুরনিগম ও পুরসভার কোনওটিতেই এখন থেকে আর মেয়র, চেয়ারম্যান, পুর পরিষদের সদস্য বা কাউন্সিলারের আত্মীয়—কেউ চাকরি পাবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ডিরেক্টরেট অব লোকাল বডিজকে (ডিএলবি)।
শৃঙ্খলার প্রশ্নে সর্বদাই কঠোর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বজনপোষণের অভিযোগ প্রমাণ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধিরা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপোষণের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল চুঁচুড়া পুরসভা। অভিযোগের সত্যতা সামনে আসায় গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল পুরদপ্তর। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে নবান্ন। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে একেবারে উপরতলা থেকেই সংস্কারের ব্যাপারে মনস্থির করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পুরসভা বা পুরনিগমে কোনও জনপ্রতিনিধির পরিবার, আত্মীয়স্বজন আর চাকরি পাবে না। যদি কারও নাম থেকে থাকে, সেই গোটা প্যানেল বাতিল করা হবে। মূলত এসব নিয়োগে অনুমোদন, নতুন পদ সৃষ্টি সহ কর্মী সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে থাকে ডিএলবি। তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের পুরসভাগুলিতে স্বজনপোষণ করা চলবে না। এতে দল ও সরকার— দু’য়েরই ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।