আপস বদলি প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে গিয়ে শাখা বা সেকশনের বিভাজনের জন্য অনেক শিক্ষকই আবেদন করতে পারছেন না। নিয়মটি বদলের আবেদন –সহ এক শাখা থেকে আরেক শাখায় বদলির ক্ষেত্রে পে–প্রোটেকশন দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন জানিয়েছেন শিক্ষকরাই। বুধবারই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, এবার থেকে শিক্ষকরা অনলাইনে আপস–বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকে প্রায় ছ’ হাজার শিক্ষকের বদলির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বদলি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য, দুজন শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন স্কেল, বিষয় এবং ক্যাটাগরি এক হওয়া সত্ত্বেও শাখা আলাদা হওয়ায় ২০১৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা আপস–বদলির আবেদন করতে পারবেন না। ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ হওয়া সব শিক্ষকই সাধারণ শাখায় (স্নাতক, অনার্স এবং স্নাতকোত্তর) রয়েছেন। ব্যতিক্রম ছিল উচ্চমাধ্যমিক বিষয়ের শিক্ষকরা। অনার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে এমন একজন ২০১৬ সালের আগে মাধ্যমিকে অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন। একই বিষয়ে অন্য একজন ২০১৬ সালের পর উচ্চমাধ্যমিকে নিয়োগ হয়েছেন। দুজনের যোগ্যতা, পদ, ক্যাটাগরি এক হলেও শাখার পার্থক্যের জন্য নতুন পোর্টালে আপস–বদলি সম্ভব হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার বলেন, ‘২০১৬ সালের আগে নিয়োগ হওয়া অনেক শিক্ষকই সাধারণ শাখায় শিক্ষকতা করেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকায় সেই স্কেলের বেতন পান। নিয়ম অনুযায়ী এই শিক্ষকরা আপস বা সাধারণ বদলির মাধ্যমে এই শাখাতেই বদলি হবেন। কিন্তু এতদিন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকায় যে বেতনটা পাচ্ছিলেন সেটা পাবেন না। এই শিক্ষকদের পে–প্রোটেকশনের ব্যবস্থা না করলে অনেকেই বদলির সুযোগ নিতে পারবেন না।’ শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী–শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘নর্মাল বা সাধারণ শাখায় নিযুক্ত অনার্স ও স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিতে হবে। এই আবেদন আমরা মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্কুল শিক্ষা দপ্তর–সহ সব জায়গায় জানিয়েছি।’