কোনও কিছুর কাছেই ফ্রান্স আত্মসমর্পণ করবে না: ম্যাক্রঁ

31st October 2020 11:34 am বিশ্ব
কোনও কিছুর কাছেই ফ্রান্স আত্মসমর্পণ করবে না: ম্যাক্রঁ


 News: ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে ফ্রান্স। নিস শহরের ঐতিহাসিক নোৎরদাম গির্জায় জঙ্গি হামলার পর এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনও কিছুর কাছেই মাথা নত করা হবে না। তিউনিসিয়া থেকে আসা এক শরণার্থী ছুরি নিয়ে এই হামলা চালায়। এক মহিলার মুণ্ডচ্ছেদ এবং আরও দু’জনকে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে খুন করে সে। তার নাম ব্রাহিম আইসাও (২১)। পুলিসের গুলিতে গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অবস্থা সঙ্কটজনক। গত মাসেই সে ইতালি হয়ে ফ্রান্সে আসে। পাশাপাশি, হামলার আগের রাতে ব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। জঙ্গি হানায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন ব্রাজিলের নাগরিক (৪৪)। ওই মহিলা ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে প্রাণ বাঁচাতে গির্জা থেকে একটি রেস্তোরাঁয় পালিয়ে আসেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, আমার ছেলেমেয়েদের বলবেন, আমি ওদের খুব ভালোবাসি। এদিকে এই জঙ্গি হানার তদন্তে নেমেছে ফ্রান্সের সন্ত্রাস দমন শাখা। এজেন্সির প্রধান জিন ফ্রাঙ্কোইস রিচার্ড বলেছেন, ব্রাহিমের থেকে একটি কোরান, দু›টি ফোন এবং তিনটে ছুরি পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে দু›টি ছুরি একেবারে নতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে সে ইসলামের নামে স্লোগান দিচ্ছিল। এমনকী, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও ব্রাহিম একই স্লোগান দিয়েছে। পুলিস ওকে গুলি না করলে তার ছুরি হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারাতেন বলে জানিয়েছেন রিচার্ড।
এই অবস্থায় ফ্রান্সজুড়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। নিসে অবস্থিত গির্জাগুলির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ। বলেছেন, হামলা সত্ত্বেও ফ্রান্স তার মূল্যবোধ কখনও ত্যাগ করবে না। যদি আমাদের উপর ফের হামলা হয়, তাহলে জানব আমাদের মুল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং দেশের মাটিতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারার জন্যই এই হামলা হচ্ছে।





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck