মান ভাঙ্গাতে শুভেন্দুর বাড়ীতে গেলেন পিকে

13th November 2020 12:44 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
মান ভাঙ্গাতে শুভেন্দুর বাড়ীতে গেলেন পিকে


News: শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) ঘিরে জল্পনায় নাটকীয় মোড়। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে ‘শহিদ স্মরণে’ সমাবেশের মঞ্চ থেকে ভাষণে দল এবং নেত্রীর কথা একবারও উচ্চারণ করেননি রাজ্যের পরিবহণ, সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী। কিন্তু তার একদিন পর বৃহস্পতিবার ঘাটালে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে সেই শুভেন্দুর ভাষণেই উঠে এল ‘দল’ ও ‘নেত্রী’র কথা। এদিনই কাঁথিতে শিশির অধিকারীর বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) তথা পিকে। তবে শুভেন্দু ওইসময় বাড়িতে ছিলেন না।

ঘাটালের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ মেলে ধরতে গিয়ে ভাষণে এদিন শুভেন্দু বলেন, “২০১১ সালে রাজ্যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের দলের নেত্রীর নেতৃত্বে যে লড়াই হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে দলের বিধায়ক প্রার্থীর হাত ভেঙে দিয়েছিল সিপিএম। সেই সময় কাঁথির বাড়ি থেকে ঘাটালের লক্ষ্মণপুর গ্রামে ছুটে এসেছিলাম। সেই প্রার্থীর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি। আমি ঘাটালের মানুষের পাশে আছি, ছিলাম, থাকব।” তাঁর দল ছাড়া নিয়ে চরম জল্পনার মাঝেই এদিন ভাষণে এভাবে শুভেন্দুর দল ও নেত্রীর প্রসঙ্গ টানা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। অন্যদিকে, শুভেন্দুর ছবি-সহ জেলায় জেলায় ‘দাদার অনুগামী’ বলে পোস্টার পড়ার ধারাবাহিকতায় এবার অন্য উজান। শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে ‘দল ছেড়ে যেও না’ বলে এবার পোস্টার পড়ল দক্ষিণ বারাসত-সহ বেশ কিছু এলাকায়। তবে বুধবার রাতে বিহার ভোটে জয় উপলক্ষে নন্দীগ্রামে আয়োজিত বিজেপির মিছিল ও সভায় ‘শুভেন্দু অধিকারী দলে এলে স্বাগত’ বলেও দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা মন্তব্য করেন। নন্দীগ্রামে শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে দলের নাম না করে শুভেন্দুর কটাক্ষে ভরা ভাষণ ও একইদিনে তৃণমূলের পালটা সভা ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে। শুভেন্দু অধিকারীর দল ছাড়ার জল্পনা রীতিমতো তুঙ্গে ওঠে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck