জঙ্গলে দেহ, ধর্ষণ ও খুনের নালিশ

3rd February 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
জঙ্গলে দেহ, ধর্ষণ ও খুনের নালিশ


জঙ্গলের মধ্যে এক মহিলার বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হল পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির খামারবাড়ে। মৃতার নাম নীচু মাহাতো (৫২)। তাঁর পরিজনদের অভিযোগ, নীচুকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মানছে, ঘটনাটি খুনেরই। খুনের আগে মহিলার উপরে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মহিলার পরিজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন, ‘‘শালবনির ঘটনার তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতের নাম দীপু হেমব্রম। বছর ছাব্বিশের ওই যুবকের বাড়ি খামারবাড়ের পাশের গ্রামে। রাতে ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন কুড়িয়ে পায় পুলিশ। ওই ফোনটি না কি ধৃত দীপুরই। সেই সূত্রে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অনুমান, জঙ্গলে একা পেয়েই মহিলার উপরে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে অভিযুক্ত। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে।

ওই মহিলার পরিজনেরা জানান, শনিবার দুপুরে নীচু জঙ্গলে ছাগল চড়াতে যান। বিকেলে ঘরে ফেরেন। ঘরে ফিরে তিনি দেখেন, একটি ছাগল ফেরেনি। সেই ছাগলটিকে আনতে ফের জঙ্গলে যান তিনি। আর ঘরে ফেরেননি। সন্ধ্যা হলেও ঘরে ফিরছেন না দেখে পরিজনেরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। ওই জঙ্গলে গিয়ে তাঁর দেহের খোঁজ মেলে। খবর পেয়ে যান নীচুর ছেলে লেহুল মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। না হলে এ ভাবে বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকত না। আমরা অভিযুক্তের চরম শাস্তি চাই।’’ জঙ্গলে দেহ পড়ে থাকার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তদন্তকারীদের অনুমান, গলা টিপে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে ওই মহিলাকে। পুলিশের এক সূত্রে খবর, মহিলার গলায় না কি অভিযুক্তের নখের দাগ রয়েছে। আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। আজ, সোমবার ধৃতকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ। ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীও সরব হয়েছেন। রবিবার শালবনি থানায় এসেও এই দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। 

ঘটনার সঙ্গে কি আরও কেউ জড়িত? পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, একজনই এই কাজ করেছে। আরও কেউ জড়িত কি না তদন্তে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার জেরে খামারবাড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck