গান্ধীজির স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘নাটক’, বললেন বিজেপি সাংসদ হেগড়ে

4th February 2020 ভারত
গান্ধীজির স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘নাটক’, বললেন বিজেপি সাংসদ হেগড়ে


: সাধ্বী প্রজ্ঞার পর এবার অনন্তকুমার হেগড়ে। মহাত্মা গান্ধী প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কে আরও এক বিজেপি সাংসদ। হেগড়ের বক্তব্য, মহাত্মা গান্ধীর স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল ‘নাটক’। পুরোটাই ছিল ব্রিটিশদের সম্মতি ও সমর্থনের ভিত্তিতে। কর্ণাটকের এই বিজেপি নেতার মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনীতির অলিন্দে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেগড়ের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে কংগ্রেসের তরফে। সোনিয়া গান্ধীর দলের তোপ, ব্রিটিশদের ‘চামচা’ ও ‘চর’দের কাছ থেকে সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই জাতির জনকের। ঘটনাচক্রে, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা বারবার তুলে ধরতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। মহাত্মার ১৫০তম জন্মজয়ন্তী ধুমধাম করে পালনের উদ্যোগও নেন তিনি। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর সাধের স্বচ্ছ ভারত অভিযানের লোগো তৈরি হয়েছে গান্ধীজির চশমার অনুকরণে। এই পরিস্থিতিতে হেগড়ের মন্তব্য মহা ফাঁপরে ফেলেছে বিজেপিকে। বিড়ম্বনা এড়াতে আসরে নামতে হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। প্রবীণ এক বিজেপি নেতা বলেন, হেগড়ের মন্তব্য ‘নিন্দাজনক’। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হতাশ। দল যে অসন্তুষ্ট, তা তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবিধান খুঁজতে বলা হয়েছে। হেগড়েকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, মহাত্মা গান্ধীর অসম্মান গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি সূত্রের খবর, মন্তব্যের জন্য হেগড়েকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে দলের তরফে।
এর আগে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে ‘দেশভক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ভোপালের বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা। তোলপাড় শুরু হওয়ায় বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলে। এবার গান্ধীজির নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলের বিড়ম্বনা বাড়ালেন হেগড়ে। বেঙ্গালুরুর এক অনুষ্ঠানে কন্নড় ভাষায় তাঁর এই মন্তব্যে গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এমনকী গান্ধীজিকে ‘মহাত্মা’র মর্যাদা দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে কংগ্রেস। দলীয় মুখপাত্র জয়বীর শেরগিলের ট্যুইট, ব্রিটিশদের ‘চামচা’ ও ‘চর’দের কাছ থেকে সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই জাতির জনকের। তোপ দেগেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মাও। বিজেপিকে তুলোধোনা করে তাঁর বক্তব্য, ওরা স্বাধীনতা আন্দোলনকে অশ্রদ্ধা করছে। বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী যদি মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী পালনে আন্তরিক হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী সংসদে এসে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করুন। বিজেপি ভোটের জন্য মরিয়া। শুধুমাত্র কিছু ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে ভারতের আত্মায় গভীর ক্ষত তৈরি করছে। হিংসা ও মেরুকরণের রাজনীতি করছে বিজেপি।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck