কলকাতা: ধর্নায় বসার দাবি নিয়ে মামলা করেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল রেকগনাইজড আনএডেড মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। পুলিস ও প্রশাসন বারংবার তাদের দাবি না মানলেও মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য পুলিসি সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে অভিমত দিয়ে বলেছেন, মামলাকারীরা ১০ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাশ ভবনের সামনে টানা ধর্না অবস্থানে বসতে পারবেন।
মামলার বয়ান অনুযায়ী, রাজ্যে সরকারি সাহায্য না পাওয়া এমন মাদ্রাসার সংখ্যা ২৩৪টি। সব মিলিয়ে সেগুলিতে আছেন প্রায় ২৫০০ শিক্ষক। এই মাদ্রাসাগুলি ২০১৩ সাল নাগাদ সরকারি অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু, সরকারি অর্থসাহায্য থেকে তারা বঞ্চিত। ফলে সেগুলিতে মিড-ডে মিল নেই। নেই পরিকাঠামোগত অর্থসাহায্য। শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের বেতনও অনিশ্চিত। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তারা সরকারি অর্থসাহায্য পাওয়ার জন্য দরবার করে চলেছে। তা না মেলায় এবার তারা একযোগে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংগঠনটির আইনজীবী দেবাশিস সাহা ও মনিরুজ্জামান আদালতকে জানান, প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ধর্নায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশাসন সেই উদ্যোগে অনুমতি দেয়নি। পরবর্তীকালে বিকাশ ভবনের সামনে একই পরিকল্পনা কার্যকর করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু, পুলিস তখনও তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এই বছরের ২ জানুয়ারি তাই বিধাননগর পুলিস কমিশনারেটকে একই অনুরোধ করা হয়। ৯ থেকে ২০ জানুয়ারি ধর্না চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু, পুলিসের তরফে জানানো হয়, শুধুমাত্র ১১ জানুয়ারি কয়েক ঘণ্টার জন্য তা করা যেতে পারে। ৯ জানুয়ারি ফের একই আবেদন নিয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়, ১৫ থেকে ২৫ জানুয়ারি তাদের ধর্নায় বসার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু, তার জবাব না আসায় ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ জানুয়ারি পুলিস ই-মেল করে জানায়, ১৫ জানুয়ারি করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনের কাছে তা করা যেতে পারে।
এদিন মামলাটির শুনানিতে পুলিসের তরফে বলা হয়, এমন ধর্না চললে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু, আদালত বলেছে, কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে পুলিস এভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তা অযৌক্তিক। এই প্রেক্ষাপটে ওই নির্দেশ জারি হয়েছে।