বিনামূল্যে গৃহস্থদের বিদ্যুৎ দিতে রাজ্যের খরচ হবে বছরে ১০০ কোটি টাকা: মন্ত্রী

13th February 2020 পশ্চিমবঙ্গ
বিনামূল্যে গৃহস্থদের বিদ্যুৎ দিতে রাজ্যের খরচ হবে বছরে ১০০ কোটি টাকা: মন্ত্রী


কলকাতা: এবারের রাজ্য বাজেটে তিন মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গৃহস্থদের মাশুল দেওয়া থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৩৫ লক্ষ পরিবারকে এই সুবিধা দিতে সরকারের বছরে একশো কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু রাজ্যের বহু মানুষ যে এখন বেআইনিভাবে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তা বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বুধবার বিধানসভায় জানিয়েছেন। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে ফরওয়ার্ড ব্লকের নগেন্দ্রনাথ রায় কোচবিহার জেলায় বকেয়া বিদ্যুতের বিল সম্পর্কে জানতে চান। মন্ত্রী জবাবে জানান, ২০১৯ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই জেলায় বিদ্যুতের বিল বাবদ ১৩৬ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বকেয়া আছে। মোট ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪২১ জনের কাছে বিদ্যুতের বিল বকেয়া আছে। এর ম঩ধ্যে ৬৯ হাজার ৪৪৪ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা হয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, গ্রেটার কোচবিহারের আন্দোলনকারীরাই কি বিদ্যুৎ বিল জমা দিচ্ছেন না। শোভনদেববাবু অবশ্য এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূলের এক বিধায়ক বলেন, অনেকেই মিটার ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এটা বন্ধ করতে বিদ্যুৎ দপ্তর কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? উত্তরে বিনা মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তকে কিছুটা দায়ী করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাম আমলে ‘লোকদ্বীপ’ নামে বিনা মাশুলে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার একটি প্রকল্প চালু হয়। দরিদ্র মানুষদের জন্য এই প্রকল্পে একটি পয়েন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের অনেকেই এর থেকে অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরি আটকাতে এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ চুরি বেশি হয়, সেখানে কেবলের উপর একটি ‘কভার’ লাগানো হচ্ছে। এতে হুকিং করা যাবে না। এই ব্যবস্থা নিলে হুকিংপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা মিটার নিয়ে বৈধ উপায়ে বিদ্যুৎ নেবেন বলেন আশাবাদী মন্ত্রী। তিনি বলেন, বলপ্রয়োগ করে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা তাঁদের নীতি নয়। মানুষকে বুঝিয়ে এই কাজ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি।
শোভনদেববাবু এদিন বিধানসভায় বলেন, বিদ্যুতের দাম কত হবে, তা রেগুলেটরি কমিশন ঠিক করে। এব্যাপারে তাঁর দপ্তরের কোনও ভূমিকা নেই। তবে মন্ত্রীর দাবি, ২০১৬ সালের আগস্ট মাসের পর বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। বিরোধী বিধায়করা কৃষিকাজে ব্যবহৃত মাশুল কমানোর প্রসঙ্গ তোলেন। মন্ত্রী জানান, কৃষির জন্য রাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ইউনিট পিছু ২ টাকা ৪০ পয়সা মাশুল হবে। পিক আওয়ারে যেখানে ৭ টাকার বেশি মাশুল হয়।
রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানি এলাকার গ্রাহকদের তিন মাস অন্তর বিদ্যুতের বিল মেটানোর যে ব্যবস্থা আছে, তা পরিবর্তন করে সিইএসসি-র মতো প্রতি মাসে বিল দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার দাবি তোলেন বিরোধী বিধায়করা। মন্ত্রী অবশ্য ব঩লেন, তিন মাস অন্তর বিল মেটানোর ব্যবস্থায় গ্রাহকদের সুবিধা হচ্ছে। তাঁরা হিসেব দিয়ে দেখাতে পারেন, এতে কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। বরং খরচ কিছুটা কমে। বন্টন কোম্পানিকে প্রতি মাসে বিল দিতে গেলে এই সংক্রান্ত খরচ ১০ গুণ বেড়ে যাবে। এই বর্ধিত খরচের দায় গ্রাহকদেরই নিতে হবে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৯৯.৯৯ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। ২০১১ সালে ৮৬ লক্ষ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। এখন তা বেড়ে ১ কোটি ৯৫ লক্ষ হয়েছে।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck