আন্তৰ্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

21st February 2020 বিশ্ব
আন্তৰ্জাতিক মাতৃভাষা দিবস


আপনাদের সকলকে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
আমাদের গর্ব আমাদেরই মাতৃভাষা। যে ভাষা মায়ের কাছ থেকে জন্মের পূর্ব সম​য় থেকে শেখা। তা সে যে ভাষাই হোক না কেন , সেটাই আমার অথবা সেই দেশের বা সেই অঞ্চলের অতিপ্রিয় মাতৃভাষা। সেই ভাষাতেই সেই অঞ্চলে সৃষ্টি হয় সাহিত্য , কাব্য , কত দন্তকথার গল্প , লোকগীতি , ছড়া , আনন্দময় গান!। আমার অঞ্চলে যে ভাষা প্রচলিত আছে , জন্মসূত্রে প্রাপ্ত সেই ভাষাতেই আমি কত সহজে স্বচ্ছলতার সঙ্গে সাবলীল ভাবে প্রকাশ করতে পারি আমার মনের অভিলাশা ,অভিমত ,সংলাপন নিশ্চিন্তে। সাবলীন ভাবে অথবা অতি সহজেই গ্রহণ করতে বা বুঝতে পারি বিষয়বস্তুর মর্মকথা বা মর্মার্থ।
ভৌগলিক কারণে যে কোন শব্দে সেই ভাষা উচ্চারিত হোক না কেন , সেই প্রিয় ভাষাটাই সেই অঞ্চলের নিজস্ব অতিপ্রিয় , সম্মানিত মাতৃভাষা। সেই ভাষাই সেই অঞ্চলের গর্ব এবং সম্মান।
সেই মাতৃভাষাকে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন করে কত নির্যাতন সহ্য করে ,প্রাণ বলিদান দিয়ে সসম্মানে বিশ্বমান্য করিয়ে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করানো একটা গর্বের বিষ​য়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , মাতৃভাষা বাংলাভাষা যে কত প্রিয় এবং স্বাভিমান জড়ানো তার উদাহরণ হিসেব দিগন্ত বিস্তৃত প্রসিদ্ধিপ্রাপ্ত কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্বের জীবনী অধ্যয়নে জ্ঞাত হয়।
মাতৃভাষাপ্রেমী বিশ্ব বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আচার্য প্রফুল চন্দ্র রায়। উনি ব্রিটিশ আমলে নিজের মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কী পরিমাণ সংগ্রামী ছিলেন তার উল্লেখ এই ঘটনায় পাওয়া যায় -
নির্ভিক কর্মযোগী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্বদেশের টানে ১৮৮৮ সালে বিদেশ থেকে ভারতে ফিরে কলকাতায় প্রেসিডেন্সী কলেজে সহায়ক অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেন। অধ্যাপনার সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে রসায়নের উপর গভেষণা। কলেজ প্রশাসনের অথবা ইংরেজ সরকারের নিয়ম বিরুদ্ধ হ​য়ে বাংলাভাষা অথবা মাতৃভাষাপ্রেমী আচার্য কলেজে বাংলা ভাষাতেই ছাত্রদের পড়ানো আরম্ভ করেছিলেন কারণ আচার্য মানতেন যে নিজস্ব ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ এবং শিক্ষাদান দুটোই সাবলীল এবং সহজাত। মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ সহজ গ্রাহ্য এবং ন্যায় সঙ্গত অধিকার।
বাংলাভাষা এবং দেশপ্রেমী অন্যতম আরেক জন মহান ব্যক্তিত্ব হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি নিজের মাতৃভাষা বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান সংসদে স্বীকৃত করার জন্য সশক্ত দাবী তুলেছিলেন এবং ১৯৪৮ শে ভাষা আন্দোলনে উনি ছিলেন প্রথম কারাবন্দীদের মধ্যে অন্যতম একজন। শুধু তাই নয় , বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সংসদে/পরিষদে স্বীকৃত করবার জন্য উনি সশক্ত মন্তব্য রাখেন এই বলে যে " আমরা এখানে বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাই। আমরা অন্য কোন ভাষা জানি কি জানিনা তাতে কিছুই যায় আসে না ,যদি মনে হয় আমরা বাংলাতে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি , তাহলে ইংরেজীতে কথা বলতে পারা সত্বেও আমরা সবসময় বাংলাতেই কথা বলব। যদি বাংলায় কথা বলতে না দেওয়া হয় তাহলে আমরা পরিষদ থেকে বেরিয়ে যাব। কিন্তু ,পরিষদে বাংলায় কথা বলতে দিতে হবে ,এটাই আমাদের দাবী"। কত নির্ভীক মাতৃভাষা প্রেমী! ! কতবড় স্বাভিমান !
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমকালীন আরেক জন অন্যতম মহান মাতৃভাষাপ্রেমী সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব , যিনি মাতৃভাষার মান রাখতে সহ্য করেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অকথ্য অত্যাচার , তিনি হলেন মাননীয় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয়। যাঁর নামে বর্তমান বাংলাদেশে একটি পথের নামকরণ করা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ওনার নামে একটি গ্রন্থাগারের নামকরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ,বাংলাদেশের জাদুঘরে ওনার একটি ছবিও আছে। ১৯৪৮ সালে যখন পাকিস্তান সরকারে মহম্মদ আলী জিন্নাহ সাহেবের নেতৃত্বে সংসদের সভায় নির্ণয় নেওয়া হয় যে পাকিস্তানের সরকারী ভাষা উর্দুকে করা হবে , সেই সময় মহম্মদ আলী জিন্নার সম্মুখে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয় বাংলা ভাষাকে সরকারী স্বীকৃতি দেবার নির্ভীক দাবী করেছিলেন। মাতৃভাষা আন্দোলে সক্রিয়তার কারণে পরবর্তীকালে কারাগারে কষ্টময় অত্যাচারিত জীবন ব্যতীত করেছিলেন সুদীর্ঘ সময় নিজের মাতৃভাষা বাংলা ভাষাকে ভালবেসে এমন একজন সমর্পিত
স্বাভিমানী মাতৃভাষা সৈনিক।
সেই স্বাভীমানের দাবী বিশ্বের দরবারে উঠেছিল ১৯৫৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীতে। আরম্ভ হল আন্দোলন , জ্বলল আগুন , চলল পুলিশের গুলি , ঝরল কত তাজা প্রাণের তাজা রক্ত । অবশেষে ,১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বরে ,প্যারিসে , তাজা বুকের রক্তে রঞ্জিত হ​য়ে বিশ্বের দরবারে উড়ল মান্যতার বিজ​য় কেতন ! কিন্তু , আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতে আরম্ভ হল ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে।
বিশ্বের কোন একটি ভাষা যে নিজের আঞ্চলিক পরিচয়ে জন্ম দিতে পারে এক রাষ্ট্রকে ,তারই অকাট্য উদাহরণ হল আজকের বাংলাদেশ !
নিজের মাতৃভাষাকে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই মহান আন্দোলনে যাঁরা সর্বস্য ত্যাগ করে অংশগ্রহণ করলেন ,তাঁরা ধন্য ,প্রণম্য ,যাঁদের বুকের রক্তের বিনিম​য়ে আজকে ভাষাদিবসের মান্যতা পেয়ে পালিত হচ্ছে "মাতৃভাষা দিবস" সম্পূর্ণ বিশ্বে।
বাংলাভাষা আমার মাতৃভাষা। ভাষা আন্দোলনের সেই সম​য় - যখন চলছে উগ্র স্বাভিমানের আন্দোলন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ,অধুনা বাংলাদেশে তখন পাকিস্তানী সৈনিকের গুলিতে প্রাণ হারিয়ে শহীদ হলেন বাংলাদেশের চার বীর মাতৃভাষা প্রেমী তরুণ যুবক । সৃষ্টি করলেন ইতিহাস। মাতৃভাষা রূপে প্রিয় বাংলাভাষাকে প্রাণের বিনিময়ে সসম্মানে স্বীকৃত করালেন বিশ্বের দরবারে ,সৃষ্ট হল প্রিয় মাতৃভাষার নামে এক নবীনরাষ্ট্র "বাংলাদেশ "। বিশ্বে সৃষ্টি হল ইতিহাস! মাতৃভাষা আন্দোলনে দেশমায়ের সেই চার মহানবীর অমর সন্তানগন হলেন , বীর শহীদ রফিক , শহীদ সালাম ,শহীদ বরকত এবং শহীদ জব্বার , যাঁদের নাম গোটা বিশ্বে সগর্বে উচ্চারিত হয় সসম্মানে।
ভাষা আন্দোলনের সেই বীর চার শহীদ যুবাপ্রাণকে আজ মাতৃভাষা দিবসে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম এবং করি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ।
বাংলাদেশ পরিভ্রমণ কালে ঢাকা শহরে স্থিত শহীদ মীনারে সেই বীর শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য অনুভব করছি। সার্থক হয়েছে আমার জন্ম।
জ​য়তু : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ।
জ​য় আমার মাতৃভাষা , বাংলাভাষার জয়॥





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck