‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে পুড়ছে দিল্লি!‌ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

26th February 2020 ভারত
‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে পুড়ছে দিল্লি!‌ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮


সাম্প্রদায়িক হিংসায় জ্বলছে দিল্লি। রাজধানীর আকাশে সারা দিনই কালো ধোঁয়া পাকিয়ে পাকিয়ে উঠেছে। স্লোগান উঠছে, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’। সংঘর্ষ পাথর-যুদ্ধ, গুলি, ভিড় জমিয়ে মারধর, অসংখ্য বাড়ি-দোকানে আগুন লাগানো, লুঠতরাজ— কিছুই বাকি থাকেনি। সংবাদসংস্থা এনএনআই সূত্রে শেষ পাওয়া খবর, দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮। আগামী এক মাসের জন্য উত্তর–পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে গুরুতর আহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে মৃত্যুও বাড়ার আশঙ্কা। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রায় অর্ধেক গুলিবিদ্ধ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ-মৌজপুরে সিএএ-বিরোধী ও সিএএ-পন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে অশান্তি তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবার রাতে সেই অশান্তি পূর্ব দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বারেবারে জরুরি বৈঠক করলেও চিত্র একটুও বদলায়নি। বরং আরও জটিল হয়েছে। দিল্লির হিংসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ভিডিও, ছবি ভাইরাল হয়েছে। এরকমও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে দেখা গিয়েছে, পুলিশই ‘‌জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তুলে এক মুসলিম যুবককে মারছে। এ দিন মাঝ রাতে উপদ্রুত সীলামপুরে গিয়ে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল। যা দেখে অনেকেই বলছেন, রাজধানীর এক টুকরো অংশের আইনশৃঙ্খলা সামলাতে এনএসএ-কে আসরে নামতে হচ্ছে, পুলিশি ব্যর্থতার এক চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে!‌ 





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck