দিল্লির রাস্তায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য হওয়া সেই জখম যুবকের মৃত্যু, বিতর্কে পুলিস

1st March 2020 ভারত
দিল্লির রাস্তায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য হওয়া সেই জখম যুবকের মৃত্যু, বিতর্কে পুলিস


আচ্ছি তারহা গা...!’ ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়াচ্ছে। লাঠির ঘায়ে পিঠে কালো দাগ। হাঁটু মুড়ে রাস্তার উপর কাতরাচ্ছেন পাঁচ যুবক। তাঁদের মুখের উপর লাঠি উঁচিয়ে কয়েকজন পুলিসকর্মী। আবারও পুরুষ কণ্ঠে গলদগম্ভীর নির্দেশ-‘আচ্ছি তারহা গা...!
কী গাইবেন তাঁরা? কেন, জাতীয় সঙ্গীত। ফের কড়া শাসনে ঝাঁকিয়ে উঠল এক গোছা লাঠি। সমস্বরে আওয়াজ উঠল, বাঁচতে চাইলে চটজলদি গেয়ে ফেল..! কাঁচুমাচু মুখে পাঁচ যুবক গাইতে শুরু করলেন-‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে...।’ তাঁদের একজন ফয়জান। বছর তেইশের যুবক। গুরুতর জখম ফয়জানকে পুলিস সেদিনই আটক করে। ক্রমেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। থানা ঘুরে হাসপাতাল। শেষ রক্ষা হয়নি। দিল্লির গুরু তেগবাহাদুর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু খবর চাউর হতেই প্রকাশ্যে আসে সেদিনের সেই ভিডিও ফুটেজ। মুহূর্তে সেটি ভাইরালও হয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। সমালোচনায় সরব হন নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশ। ‘কর্তব্য পালন’ নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে দিল্লি পুলিস। ফয়জানের পরিবারের অভিযোগ, পুলিসি হেফাজতে অকথ্য অত্যাচারেই মারা গিয়েছেন তাঁদের ছেলে।
ফয়জানের বাড়ি উত্তর-পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীতে। দিল্লি পুলিসের একটি সূত্র বলছে, খুব সম্ভবত ওই ভিডিওটি মঙ্গলবার তোলা। রবিবার থেকে জ্বলছিল কর্দমপুরী। হানাহানি, মৃত্যু, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। কোনওকিছুই বাকি ছিল না কর্দমপুরীর অলিতে গলিতে। ‘অশান্তি ঠেকাতে’ শুরু হয় পুলিসের ব্যাপক ধরপাকড়। আটকদের তালিকায় ছিলেন ফয়জান সহ ওই পাঁচ যুবক। তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রাস্তায় ফেলে গাইতে বাধ্য করা হয় জাতীয় সঙ্গীত। অন্তত ভিডিও ফুটেজের দাবি সেটাই।
ফয়জানের পরিবারেরও দাবি, অত্যন্ত নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়েছে ওই পাঁচ যুবককে। থানাতেও চলেছে নির্মম অত্যাচার। সর্বভারতীয় একটি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফয়জানের মা বলছিলেন, ‘রাস্তায় ফেলে আমার ছেলে বেধড়ক পেটানো হয়। তাঁর পা ভেঙে গিয়েছিল। লাঠি অথবা রডের আঘাতে পিঠে কালো দাগ পড়ে গিয়েছিল। প্রথমে বুঝতেই পারিনি, যাঁদেরকে রাস্তায় ফেলে মারা হচ্ছে, তাঁদের একজন আমার ফয়জান।’
প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে বৃদ্ধা ছুটেছিলেন স্থানীয় হাসপাতালে। না, সেখানে ফয়জান নামে কেউ ভর্তি ছিলেন না। হাসপাতাল হয়ে তিনি যান জ্যোতি কলোনির থানায়। পুলিসকে ফয়জানের ছবি দেখান তিনি। থানার কর্তব্যরত পুলিস অফিসার তাঁকে জানান, ফয়জান তাঁদের হেফাজতেই রয়েছেন। একরাশ ক্ষোভ আর যন্ত্রণা বুকে চেপে বৃদ্ধা বলছিলেন, ‘পুলিসকে আমি হাতজড়ো করে অনুরোধ করেছিলাম, ছেলের সঙ্গে একবার দেখা করতে দিন। অন্তত একটিবার। একটু কথা বলেই চলে যাব। পুলিস আমার কোনও কথাই শুনল না। তবুও আশা নিয়ে রাত একটা পর্যন্ত থানাতেই ঠায় বসেছিলাম।’
হাল ছা঩ড়েননি ফয়জানের মা। পরের দিন প্রতিবেশী দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে ফের গিয়েছিলেন থানায়। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে থানার লক আপে তাঁদেরও ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় পুলিস। এমনটাই অভিযোগ ফয়জানের মায়ের। বৃদ্ধার কথায়, ‘পুলিস আমাদের আটক করে রাখবে বলে শাসাতে থাকে। পরে ওরা (পুলিস) বলেছিল, বেলা এগারোটার সময় যেতে। আমরা গিয়েও ছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে আমার ছেলে প্রায় আধমরা হয়ে গিয়েছিল। ওকে আর বাঁচাতে পারলাম না।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck