স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের নয়া বিধিতে পরীক্ষার নম্বরের বিভাজনে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার গুরুত্ব ছেঁটে দিয়ে এবার উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের ৩৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই তিনটি স্তরে যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে, তাতে লেখা, ভাইভা এবং শিক্ষকতা যোগ্যতা ধরে ১০০ নম্বর ধার্য করা ছিল। তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য উচ্চ প্রাথমিকে ৪০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫৫ নম্বর।
শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাইভা, ইন্টারভিউ ইত্যাদি কিছুই আর থাকছে না। নয়া বিধিতে বলা হয়েছে, উচ্চ প্রাথমিকে প্রার্থীদের টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট দিতে হবে। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রার্থীদের দিতে হবে প্রিলিমিনারি টেস্ট (পিটি)। তিনটি বিভাগের প্রার্থীদেরই ১৫০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কিন্তু, শতাংশ করে প্রার্থীদের সর্বমোট ১০০’র উপরেই নম্বর দেওয়া হবে। এটি হল নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপ। এটি পাশ করতেই হবে পরীক্ষার্থীদের। দ্বিতীয় ধাপে মোট ২০০ নম্বর রয়েছে। তার মধ্যে ইংরেজি’তে ৫০, যে ভাষায় আবেদন বা পড়াবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তাতে থাকবে ৫০ এবং যে বিষয়ের জন্য আবেদন করবেন তিনি, তার জন্য রয়েছে ১০০ নম্বর। এই ৩০০’র মধ্যে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্যানেল তৈরি হবে। উল্লেখ্য, টেট বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পাশ করলেই পরের ধাপের খাতা মূল্যায়নের জন্য বিবেচনা করা হবে। আগে লিখিত পরীক্ষা বাদে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর ৫০ নম্বর থাকত। ভাইভার জন্য বরাদ্দ ছিল ১০। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রার্থীদের এই দু’টি ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্বও দেওয়া হত। লেখা পরীক্ষার উপর এতটা গুরুত্ব দিয়ে কেন শিক্ষাগত যোগ্যতাকে উপেক্ষা করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষামহলে।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতাকে তুলে দেওয়াটা ঠিক হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকারের মতে, শুধু লেখা পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হলে, তার সঠিক মূল্যায়ন হবে না।
এছাড়াও নয়া বিধিতে আরও কয়েকটি বদল আনা হয়েছে। চাকরি প্রার্থীদের যে প্যানেল তৈরি হবে, তার মেয়াদ এক বছরের জন্য হবে। প্রয়োজনে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে এসএসসি।