জন্ম শংসাপত্রের কাগজ ছাড়াই বিজেপির বড় নেতা নাগরিক। তাহলে আমরা নই কেন? সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যুতে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মালদহ শহরের সাহাপুরে দলের কর্মী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে সিএএ ইস্যুতে মমতা সামনে এনেছেন ‘রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট’ (আরটিআই) প্রসঙ্গ। প্রশ্ন তুলেছেন, জন্মসূত্রে সবাই যখন নাগরিক, তবে কেন সিএএর নামে এত হেনস্তা আর ভেদাভেদ। নামে কর্মিসভা হলেও এদিন তা বিশাল জনসভারই চেহারা নিয়েছিল।
গত জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ জনৈক শুভঙ্কর সরকার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে (পিএমও) আরটিআই করে জানতে চেয়েছিলেন, মোদির নাগরিকত্ব শংসাপত্র রয়েছে কি না। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ প্রবীন কুমার নামে পিএমওর অবরসচিব তথা সিপিআইও প্রত্যুত্তরে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের সেকশন ৩ অব ১৯৫৫ অনুযায়ী জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। জন্ম শংসাপত্রের প্রশ্নই ওঠে না। মালদহ সভার মঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এ টু জেড, সবার কাছে জানতে চায় নাগরিকত্ব কোথায়?
এরপরই নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা—তুমি যদি জন্মসূত্রে নাগরিক হও, তাহলে আমরা যারা এদেশে জন্মেছি, তারা নয় কেন? মমতার কটাক্ষ, বিজেপির ওই বড় নেতা যদি এক নম্বর হয়, তাহলে আমরা বাংলার লোকজন কি ছাগলের তৃতীয় সন্তান! একথায় সভাস্থল জুড়ে নাগাড়ে ঢাক-ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনি হচ্ছিল। তখনই জনতার থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো আদায় করে নিলেন তাঁর প্রতি সমর্থন। দিল্লি যদি জোর করে মানুষের অধিকার আর ঠিকানা কেড়ে নিতে আসে, পাশে থেকে লড়াই করবেন তো? দিল্লির চোখ রাঙানোকে ধার ধারি না, আপনারা আছেন তো? জনতার জবাব, দিদি, আপনার সঙ্গেই আছি। মালদহের আগে এদিন দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরের কর্মী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ফের দিল্লি হিংসার প্রশ্ন উত্থাপন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে গুজরাত মডেলে গণহত্যা হয়েছে। বাংলায় ইঁদুর কামড়ালে যারা সিবিআই চায়, তারা এত বড় গণহত্যার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করাচ্ছে না কেন? মমতার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক। গণহত্যা করার অধিকার কে দিল বিজেপিকে? এই পর্বে তৃণমূল সুপ্রিমো বলে, গণহত্যা ইস্যুতে শনিবার রাজ্যে সব ব্লকে ‘বিজেপি ছিঃ ছিঃ’ কর্মসূচি পালিত হবে। তাঁর অভিযোগ, দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আসলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিল্লি গণহত্যার কথা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মমতা এদিন বলেন, কলকাতা আর বাংলাটা দিল্লি নয়। কী স্পর্ধা! এখানে গোলি মারো স্লোগান দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই সাত-আটজনকে গ্রেপ্তার করেছি। দিল্লির হিংসা নিয়ে ক্ষমা না চেয়ে উল্টে বলছে গোলি মারো। একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই, গোলি মারো স্লোগান যে দেবে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। কলকাতায় এসে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিধানসভায় তাঁদের টার্গেট ২০০ আসন। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ২০০ কেন! বাকি আসন কি সিপিএম আর কংগ্রেসকে দেবে, অ্যাডজাস্টমেন্ট! তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, তোমার (বিজেপি) যেখানে আসন আছে, সেটি সমেত আমার টার্গেট ২৯৪। বুনিয়াদপুরে মমতা।