News: বিজেপি ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার পৃষ্ঠপোষক’। তাদের পরাজিত করতেই হবে। তারা যাতে একটি ভোটও না পায়, তা সুনিশ্চিত করা জরুরি। শুক্রবার, গণেশ চতুর্থীর দিনেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে কার্যত এমনই বার্তা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর আগামী লক্ষ্য লোকসভা নির্বাচন। সেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন দলনেত্রী। এদিন মনোনয়ন পর্ব শেষে তাঁর ফেসবুক বার্তায় ফুটে উঠেছে সেই প্রত্যয়—‘বাংলায় শান্তি সম্প্রীতির বাতাবরণ অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে আমি মরণপণ সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত।’
এদিন দুপুরে তৃণমূল সুপ্রিমো যখন মনোনয়ন জমা দিতে বেরচ্ছেন, তখন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সিদ্ধিদাতার পুজোয় বসেছেন পুরোহিত। তার পাশ দিয়েই এগয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি। সোজা গিয়ে থামে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে। অদূরে স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোগে হয়েছে গণেশ পুজো। সাউন্ড বক্সে তখন বাজছে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে গান। করোনা পরিস্থিতির কারণে জমায়েত না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা। ফলে কর্মীরাও আসেননি। শুধু হাজির ছিলেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এবং মমতার চিফ ইলেকশন এজেন্ট বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে পথচলতি মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে প্রবেশ করলেন তৃণমূলপ্রার্থী। ঘড়ির কাঁটা তখন দুটো ছুঁই ছুঁই।
ভবানীপুরকে বলা হয় ‘মিনি ভারতবর্ষ’। তাই মমতার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হাজির হয়েছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সর্ব ধর্মের প্রতিনিধি— ইসমাত হাকিম, নিশপাল সিং রানে, বাবলু সিং, মীরাজ শাহ। উল্লেখ্য ইসমাত রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী। নিশপাল সিং টলিউডের প্রযোজক এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী। মিনিট ১৫ বাদে মনোনয়ন পর্ব শেষে বেরিয়ে আসেন মমতা। তারপরই তাঁর বার্তা, ‘বিজেপির নির্মম অত্যাচারে শিকার হয়েছেন কৃষক, শ্রমিক, নারী থেকে দলিত। এই রাজ্য তথা সমগ্র দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় সরকার এক ভয়ানক সঙ্কটের সামনে এনে ফেলেছে।’