প্রার্থী ঘোষণা মমতার, দিশাহারা বাম-কংগ্রেস

10th March 2020 পশ্চিমবঙ্গ
প্রার্থী ঘোষণা মমতার, দিশাহারা বাম-কংগ্রেস


রাজ্যসভায় চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল তৃণমূল। যদিও বিরোধী জোটের সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রত বক্সি, দীনেশ ত্রিবেদি, মৌসম বেনজির নুর এবং অর্পিতা ঘোষের নাম রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা থেকে শূন্য হওয়া রাজ্যসভার পাঁচ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৩ মার্চ, দুপুর তিনটে। বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের চারটি আসনে জয় নিশ্চিত। বাকি আসনটি এককভাবে কারও পক্ষে জেতা সম্ভব নয়। একজোট হয়ে ওই আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও বাছাই নিয়েই এখনও দিশাহারা কংগ্রেস-বাম শিবির।
ষোড়শ লোকসভায় দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ সুব্রত বক্সি গত বছর নির্বাচনে দাঁড়াননি। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রতকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন মমতা। বাকি তিনজনই সপ্তদশ লোকসভায় হেরে গিয়েছিলেন। কংগ্রেসের সাংসদ থাকাকালীন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম। জোড়া ফুলের প্রতীকে তিনি মালদহ থেকে জিততে পারেননি। বারাকপুরে দীনেশ ত্রিবেদি ও রায়গঞ্জে অর্পিতাও পরাজিত হয়েছিলেন। এই তিনজনেরই পুনর্বাসন হতে চলেছে সংসদের উচ্চকক্ষে। বর্তমানে যে চারজন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রয়েছেন, তাঁরা হলেন যোগেন চৌধুরী, আহমেদ হাসান, কেডি সিং এবং মণীশ গুপ্ত। আগামী ২ এপ্রিল তাঁদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদও শেষ হচ্ছে একই দিনে।
গত ৬ মার্চ থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হলেও এদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, চারজন দলীয় প্রার্থীর মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশ অর্থাৎ দু’জন মহিলাকে রেখেছেন। বরাবরই জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে মহিলা সংরক্ষণে মমতা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। রাজ্যসভার প্রার্থী বাছাইতেও তিনি সেই ধারা অব্যাহত রাখলেন।
জোটের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে গড়িমসিতে পঞ্চম আসনটি নানা জল্পনা উস্কে দিচ্ছে। কংগ্রেস হাইকমান্ড বাংলার রাজ্যসভার আসন সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য দলের নেতারা। ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে লেখা বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের একটি চিঠি নিয়ে দলের অন্দরে জলঘোলা হতে শুরু করেছে। বামেদের সঙ্গে আলোচনা সেরে প্রার্থীর নাম ঘোষণার জন্য সোনিয়াকে তাগাদা দিয়েছেন মান্নান। যেহেতু একক শক্তিতে পঞ্চম আসনটি জেতা কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই বামেদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হলে বিকল্প হিসেবে তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবও সোনিয়াকে ওই চিঠিতে দিয়েছেন আব্দুল মান্নান। তাতেই বেজায় চটেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য থেকে সোমেন মিত্র। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশে আব্দুল মান্নান, অধীররঞ্জন চৌধুরী, সোমেন মিত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজ্যের সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা গৌরব গগৈ। যদিও তারপরও উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি হয়নি। সূত্রের দাবি, রাজ্য সিপিএমের সঙ্গে এনিয়ে প্রদেশ নেতৃত্বের আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
রাজ্যে যেখানে বাম ও কংগ্রেস হাত ধরাধরি করে আন্দোলনে নামার কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে তৃণমূলের সাহায্য চেয়ে জটিলতা তৈরি অনাবশ্যক বলে মনে করছেন প্রদেশ নেতারা। যদিও গত কয়েকদিন যাবৎ সিপিএমের আচরণে রাজ্য কংগ্রেসের অনেকেই বিরক্ত। সূত্রের দাবি, দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রার্থী করার প্রশ্নে হাইকমান্ড তো বটেই, বাংলার কংগ্রেসেরও সায় ছিল। এখন দুই শিবিরের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর খোঁজ চলছে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও এদিন পর্যন্ত জোটের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দুই দলের নেতৃত্বই। তাতে স্নায়ুর চাপ বাড়ছে রাজ্যের কংগ্রেস মহলে। বামেদের আচরণে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থীকে জেতাতে তৃণমূলের মুখাপেক্ষী হতে হবে কি না, তা ভেবেই শঙ্কিত রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck