স্পর্শকাতর কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি

12th March 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
স্পর্শকাতর কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ বলে চিহ্ণিত করা হয়েছে। থাকছে মোবাইলে কড়াকড়িও। কোনও পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল মিললে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে। 

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মেদিনীপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এ বারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সব রকম প্রস্তুতি সারা হয়েছে। মোবাইলের বিষয়ে আরও কড়াকড়ি থাকছে। কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রকে স্পর্শকাতর কেন্দ্র বলে চিহ্ণিত করা হয়েছে। সেগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে।’’ আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এক সূত্রে খবর, ‘স্পর্শকাতর’ পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি চালাতে পারে পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। 

অনেক সময়ে পুলিশ, প্রশাসন, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। সবদিক দেখেই এ বার বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে উচ্চমাধ্যমিকে। ভেনু সুপারভাইজার অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক বা সেন্টার ইনচার্জ ও সেন্টার সেক্রেটারি বাদে কারও কাছে মোবাইল থাকবে না। পশ্চিম মেদিনীপুরে এ বার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় খানিক কমেছে। গতবার ছিল ৪১,৫৯২ জন। এ বার ৪০,২২০ জন। তবে ঝাড়গ্রাম জেলায় সামগ্রিক ভাবে বেড়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।

দুই জেলার সব কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এবং জাতীয় ও রাজ্য সড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবে। সব কেন্দ্রে প্যারামেডিক্যাল টিমও থাকবে। প্রতিটি হাসপাতালে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি ব্লকে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স।  উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মেদিনীপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ঘরের মধ্যে স্মার্টফোন নিয়ে কোনও শিক্ষক ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উপ-সচিব উৎপল বিশ্বাস বলেন, ‘‘সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না।’’ পরীক্ষার দিনগুলিতে যানজট এড়াতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ট্রাফিকের বাড়তি নজরদারি থাকবে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck