বসে যাওয়া কর্মীদের তালিকা তৈরি। সেই অনুসারে পুরনো তৃণমূল কর্মীদের সম্মানিত করতে হবে। ‘বাংলার গর্ব মমতা’—তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় পর্ব শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সাবেক তৃণমূলীদের সংগঠনের মূলস্রোতে ফেরাতে জেলায় জেলায় দলের পক্ষ থেকে সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে তেমন সাড়া মেলেনি। এবার ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পেশাদার সংস্থা আইপ্যাকের সুপারিশে বসে যাওয়া কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নামতে হচ্ছে বিধায়কদের।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একইসঙ্গে ‘বাংলার গর্ব মমতা’প্রকল্পের কর্মসূচি চালাতে হচ্ছে। মোট ৭৫ দিনের এই কর্মসূচিতে দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়া রয়েছে। সেই হিসেবেই রবিবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে পুরনো কর্মীদের এনে সম্মানিত করা হবে। এই কর্মসূচির নাম ‘স্বীকৃতি সম্মেলন’। গোটা রাজ্যে এই কর্মসূচির মাধ্যমে এক লক্ষ প্রবীণ ও নিষ্ক্রিয় তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের টার্গেট দিয়েছে আইপ্যাক। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দল থেকে শাসকদলে যোগদানের হিড়িক পড়ে যায়। সাংগঠনিক কলেবর বাড়তে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বর্ষীয়ান কর্মীদের একাংশ পিছনের সারিতে চলে যায়। এই নিয়ে পুরনো-নতুন সংঘাত তৈরি হয়। সেই গোষ্ঠী কোন্দল অনেকাংশে শাসকের বিড়ম্বনার কারণ হয়েছে। বছর কয়েক আগেই সাবেক ও নব্য তৃণমূলীদের মধ্যে বিভেদ ঘোচাতে নির্দেশ দিয়েছিল দল। দলের কোর কমিটির বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যাঁরা অভিমান করে দূরে সরে রয়েছেন, তাঁদের সম্মান দিতে হবে। দলের দুর্দিনের সেইসব সৈনিককে সংগঠনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে একদিনের এই স্বীকৃতি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দলের এক বর্ষীয়ান বিধায়কের মতে, মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে বিনয়ী হতে বলেছেন। নম্র হতে বলেছেন। এমন অনেক কর্মী রয়েছেন, যাঁরা দলের জন্মলগ্ন থেকে নেত্রীর অনুগত। অথচ ক্ষমতায় বসার পর নানা কারণে তাঁরা উপেক্ষার শিকার হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী গোচরে তা এসেছে। সূত্রের দাবি, আইপ্যাকের সমীক্ষায় প্রতিটি এলাকায় আদি তৃণমূল কর্মীদের কথায় নব্যদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ শোনা গিয়েছে। এই সব উপেক্ষিতদের প্রতি প্রতিপক্ষ শিবিরের নজর রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার পিকের দাওয়াই স্বীকৃতি সম্মেলন। কাদের ডাকা হবে? এই নিয়ে যাতে কোনও গোষ্ঠীবাজি না হয়, তাই আইপ্যাকের পক্ষ থেকে ওই সম্মেলনের অতিথিদের তালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এক বিধায়কের দাবি, তিনি তালিকার সিংহভাগকেই চেনেন না। তিনি অপেক্ষাকৃত নতুন মুখ। তাঁর মতে, এইসব মানুষ যাঁরা অভিমান করে বসে গিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হতে চলেছে। শুধুমাত্র মিষ্টিমুখ করানো বা উত্তরীয় এবং স্মারক উপহার দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতাতেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে না। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তাঁর দাবি।